kalerkantho


বাসের চাকায় পিষ্ট তিশা

নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরান

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



তাকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল মা-বাবার। ছোট ভাইটিও বোনের আদরে বেড়ে উঠছিল।

প্রতিদিনের মতো মায়ের হাত ধরে স্কুলে গিয়েছিল দুই ভাই-বোন। কিন্তু স্কুল থেকে ঘরে ফেরা হলো না ছোট্ট তিশার। রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়েছে সে। নিভে গেছে তার জীবনপ্রদীপ। মা-ভাইয়ের চোখের সামনেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা, নাকি হত্যাকাণ্ড? স্কুল থেকে ঘরে ফিরে আসার পথে ছোট্ট তিশা তার মাকে জানিয়েছিল, তার ক্ষুধা পেয়েছে। ঘরে ফিরে ভাত খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা। হায়! সন্তানকে ভাত খাওয়ানোর অপেক্ষা এই মায়ের, তা কি ফুরাবে? এমন ঘটনা এর আগেও তো ঘটেছে এই রাজধানীতে। মায়ের হাত থেকে সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে দ্রুতগতির যন্ত্রদানব। মেয়ের সামনে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়েছেন মা। কোনো প্রতিকার হয়নি। চালকরা কি একটুও সচেতন হয়েছে? বেপরোয়া কিংবা ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকদের হাতে যানবাহনের চাবি তুলে দেওয়া থেকে মালিকদের বিরত রাখা যায়নি।

আমরা স্মরণ করতে পারি ২০১০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। সেদিন মায়ের হাত ধরে বাড়ি ফিরছিল ছয় বছরের শিশু হামিম। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তার। বাসচালককে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার নির্বিকার জবাব ছিল, ‘এমন দুর্ঘটনা রাস্তাঘাটে হতেই পারে। মালিক জানলেই ছাড়িয়ে নেবে। ’ এই যদি হয় বাসচালকদের মানসিকতা, তাহলে তাদের কাছে তো মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকার কথা নয়। রাজধানীর বাসচালক ও তাদের সহকারীরা যে কত দুর্বিনীত ও উদ্ধত, তা গণপরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীমাত্রই জানা। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো, সিটিং বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া। প্রতিবাদ করতে গেলে জোটে লাঞ্ছনা। কোনো প্রতিকার নেই। দেখার কেউ নেই। যাত্রীরা অভিযোগ করবে, এমন কোনো জায়গাও কি আছে? ব্যবসার কাছে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের কাছে রাজধানীবাসী জিম্মি। কোনো শৃঙ্খলা নেই। তাদের তৈরি নিয়মই এখানে আইন।

নগর পরিবহনকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে না পারলে এমন দুর্ঘটনা আরো ঘটবে। যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি বাসের ফিটনেস সনদ পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। অবশ্য এমনটিও শোনা যায় যে চলাচলের অযোগ্য যানবাহনও নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে পেয়ে যায় ফিটনেস সনদ। এর সঙ্গে ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তো পুরনো। এসব পরিবহন কম্পানির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না? যে পরিবহনের বাসটি সেদিন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে, সেই পরিবহনটি রুট পারমিট মেনে গাড়ি চালায় কি না,     তা-ও পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

তিশার পরিবারকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা চাই এই চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। সংশ্লিষ্ট পরিবহন কম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


মন্তব্য