kalerkantho


শিশু-কিশোরদের স্থূলতা বাড়ছে

এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



স্থূলতা বিশ্বজুড়েই বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। শুধু বয়স্করাই নন, শিশু-কিশোররাও এতে আক্রান্ত।

একসময় ধারণা করা হতো, এটি উন্নত বিশ্বের সমস্যা। এখন দেখা যাচ্ছে, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্যও বড় সমস্যা এটি। উন্নত দেশগুলো পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত চার দশকে সারা বিশ্বে শিশু ও কিশোরদের স্থূলতার হার ১০ গুণ বেড়েছে। বিশ্বের ১২ কোটি ৪০ লাখ শিশু-কিশোর এ সমস্যায় আক্রান্ত। স্থূল শিশুর সংখ্যা ২০২২ সালের মধ্যে আরো বাড়বে। বাংলাদেশ এ প্রবণতার ব্যতিক্রম নয়। অপুষ্টিজনিত কম ওজনের শিশু যেসব দেশে বেশি, বাংলাদেশ সেসব দেশের তালিকার প্রথম দিকে রয়েছে। এখন অপুষ্টি ও স্থূলতার দুই বোঝা একসঙ্গে বহন করতে হবে।

দুই শর বেশি দেশের পাঁচ বছর থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার ফলবিষয়ক নিবন্ধ গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল ৩ শতাংশ। অথচ ১৯৭৫ সালে এ হার ছিল মাত্র ০.০৩ শতাংশ। বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশকে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। তাদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাধাগ্রস্ত হবে। বয়স ও উচ্চতার নিরিখে অতিরিক্ত শারীরিক ওজনই স্থূলতা। এর কারণে হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, প্রজননতন্ত্রের সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থূলতা বাড়ার মূল কারণ দুটি। এক. জিনঘটিত পরিবর্তন এবং দুই. জীবনাচার। জীবনাচারের মধ্যে অনেক বিষয়ই পড়ে। বাড়তি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া, শরীরচর্চার অভাব, নিশ্চল থাকার প্রবণতা, অতিরিক্ত ওষুধ, ঘুমের ব্যাঘাত প্রভৃতি স্থূলতার বড় কারণ।

স্থূলতার জন্য সরকারের খাদ্যনীতিকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। জীবনাচার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থতাও বড় কারণ। নাগরিক জীবনে ব্যস্ততা বাড়ছে। অবকাশ মিলে না প্রায়। হাঁটাচলার সুযোগ ও সময় সীমিত হয়ে পড়েছে। শহরে ‘শৈশব’ বিলীয়মান। পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপে শিশুরা ফুরসতই পায় না। বেশির ভাগ স্কুলে খোলা জায়গা নেই, মাঠ দূরের কথা। ফলে তাদের মধ্যে বিচরণশীলতা নেই। ঘরে বসে টিভি দেখায় বা কম্পিউটারে গেম খেলায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে তারা। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এসবের ফল স্থূলতা। ভবিষ্যতের স্বার্থে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি। খাদ্যনীতিতে পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য সরবরাহের বিষয়ে জোর দিতে হবে। জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে। খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শিশু-কিশোররা তাদের ‘শৈশব’ ফিরে পায়। লক্ষণীয় পরিবর্তন স্বাস্থ্যনীতিতেও আনতে হবে। রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনেই সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


মন্তব্য