kalerkantho


ঘূর্ণিঝড় সিডরের এক দশক

উপকূলে জনজীবন রক্ষায় আরো উদ্যোগ প্রয়োজন

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হানার এক দশক পূর্তি হলো আজ। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হেনেছিল এই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস।

প্রাণ গিয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের। আহত হয়েছিল প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। বহু বাড়িঘর, গাছপালা ধ্বংস হয়েছিল। উপকূলীয় ৩০টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল, মাছের ঘের ও পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। সেই স্মৃতি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আজও ভুলতে পারেনি। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই তারা মনে মনে একধরনের আতঙ্ক অনুভব করে।

বাংলাদেশকে বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। এর কারণ কিছুটা এর ভূ-প্রাকৃতিক গঠন। বঙ্গোপসাগরের ফানেল আকৃতির একটি প্রান্তে রয়েছে বাংলাদেশ।

ফলে এখানে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ একটু বেশিই দেখা যায়। আবার উত্তরের বিস্তীর্ণ পর্বতরাজি থাকায় বর্ষায় পানির প্রবাহও বেশি হয়। প্রায়ই বন্যা দেখা দেয়। এমন দুর্যোগ পৃথিবীর আরো অনেক দেশেই দেখা যায়। কিন্তু সেসব দেশের ঘরবাড়ির ধরন, প্রতিরোধব্যবস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত হওয়ায় সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়। বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতি হয় অনেক বেশি।

আবহমান কাল ধরে উপকূলীয় বনাঞ্চল, বিশেষ করে সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের বিরুদ্ধে উপকূলীয় জনজীবনকে একধরনের প্রতিরক্ষা দিয়ে এসেছে। প্রথম আঘাতটা দেয়ালের মতো প্রতিহত করেছে সেই বনাঞ্চল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা ধ্বংস করে মানুষ তাদের বসতি ও ফসলি জমি বাড়িয়েছে। ১৯৯২ সালে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স উপকূল রক্ষা বাঁধ আরো উঁচু ও মজবুত করে বানানোর পরামর্শ দিলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। মানুষের ঘরবাড়ি দুর্বল হওয়ায় পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র ও গবাদি পশু রক্ষায় উঁচু ভূমি নির্মাণের পরামর্শও যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সিডর ও আইলায় বেড়িবাঁধের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, জানা যায় সেগুলোও ঠিকমতো মেরামত করা যায়নি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে এবং বাড়তেই থাকবে। ক্রমেই বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসার ঝুঁকিও বাড়ছে। তার ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে আমাদের আরো বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে। বেড়িবাঁধের প্রস্থ ও উচ্চতা বাড়াতে হবে এবং সেগুলোতে ঘন বনায়ন করতে হবে। উপকূলীয় নদীগুলোর তীর ধরেও বনায়ন করতে হবে। সুন্দরবনের আয়তন, গাছপালার ঘনত্ব ও বৈচিত্র্য রক্ষায় আরো কঠোর হতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র ও গবাদি পশুর জন্য টিলার সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। যেকোনো দুর্যোগের পর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে। সুপেয় পানির স্থায়ী উৎস বাড়াতে হবে। আমরা আশা করি, উপকূলীয় জনজীবন রক্ষায় সরকার আরো আন্তরিক হবে।


মন্তব্য