kalerkantho


নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে

রাষ্ট্রযন্ত্রকে তৎপর হতে হবে

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে

অপহরণ-নিখোঁজের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। শুধু রাজধানী থেকেই গত তিন মাসে ১২ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পরে পুলিশ জানায়। বাকিদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এর আগে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৪৮ জন নিখোঁজ হন। মধ্যবর্তী সময়েও কিছু ঘটনা ঘটেছে। গত জুন পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে ২৮৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এসব অপহৃত-নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে ব্যবসায়ী, ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক—সব শ্রেণি-পেশার মানুষই রয়েছেন। নিখোঁজের এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার নিখোঁজ হলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।

গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমণ্ডি থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ।

পরদিন রাতে খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁর গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে। তাতে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা মেয়েকে আনার জন্য বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন তিনি কিন্তু সেখানে পৌঁছাননি। পরে বাসায়ও ফেরেননি। উল্লেখ্য, মারুফ জামান ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের শেষদিকে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। পরের বছর অতিরিক্ত পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে অবসরে যান তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, অপহরণ-নিখোঁজের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তে খুব আগ্রহী নয়। যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁদের কেন্দ্র করে তদন্ত করা হলে অনেক রহস্য উন্মোচিত হতে পারত কিন্তু তা হচ্ছে না। অনেককে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে, এমনকি তাদের পোশাকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়ে পাওয়া যায় না। অনেকে অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। অপহরণ-নিখোঁজের বিষয়ে পুলিশ, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা ফিরে আসা ব্যক্তি কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেন না। কেউ খোলাসা করে কথা বলেন না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। ফলে কারো স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে যাওয়া বা পারিবারিক কারণে নিখোঁজ হওয়ার দায়ও পুলিশের ঘাড়ে বর্তায়। সঠিক তদন্ত হলে সন্দেহ-রহস্য দানা বাঁধত না। পুলিশকেও বদনামের ভাগীদার হতে হতো না।

ঘটনা যেভাবেই বা যার কারণেই ঘটুক না কেন, নিখোঁজ বা অপহৃত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সরকারের। ধোঁয়াশা যত থাকবে সরকারের ওপর মানুষের অনাস্থা ততই বাড়বে। শুধু তা-ই নয়, এসবের জন্য সরাসরি সরকার ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রযন্ত্রকেই দায়ী মনে করবে মানুষ। আইনগত ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সরকার এড়াতে পারে না। আশা করি, রাষ্ট্রদূত জামানকে দ্রুত খুঁজে বের করে সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে এবং ঘটনার যথাযথ তদন্তের ব্যবস্থা করবে।


মন্তব্য