kalerkantho


দুর্নীতি ঢাকার কৌশল

সম্পদ অর্জনের উৎস সন্ধান করা হোক

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক ব্যক্তিমালিকানাধীন বিপণিবিতান আছে। এসব বিপণিবিতানের নানা ধরনের নামও আছে।

ব্যক্তিমালিকানাধীন অনেক বাড়িঘর, এমনকি বিপণিবিতানের নাম মালিকের নামে করা হয়ে থাকে। একইভাবে এলাকার সড়কের নামকরণ হয় স্থানীয় কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে। বাংলাদেশের একটি জেলা শহরে দুটি প্রধান সড়কের নামকরণ হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম অনুসারে। একটি সড়কের নাম গীতাঞ্জলি সড়ক, অন্যটি অগ্নিবীণা সড়ক। এটা ব্যতিক্রম। কোনো কোনো স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের কীর্তি স্মরণ রাখার জন্যও সড়কের নামকরণ করা হয়। কিন্তু কোনো সরকারি কর্মকর্তার পদবি ব্যবহার করে বাড়ি, মার্কেট কিংবা রাস্তার নামকরণ করা হতে পারে—এ ভাবনাটি একেবারেই অভিনব। কিন্তু পুলিশের ওসি বা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদটিকেই বাড়ির নামের সঙ্গে যুক্ত করে ওসি ভিলা, ওসি মার্কেট, এমনকি ওসি রোড নামকরণ কী করে হয়?

শুরুতে এমন নাম দেখে অনেকের মনে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। হতেও তো পারে, বাড়ির লোকজন শখ করে কারো নাম রেখে দেয় ‘ওসি’।

পরে ধনবান হয়ে ওঠা সেই মানুষটি নিজের কীর্তি ধরে রাখতে মার্কেট, বাড়ির নামকরণ করেছে নিজের নামে। স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত হওয়ায় তাঁর নামেই রাস্তার নামকরণ হয়েছে। কিন্তু না, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে যে ওসি ভিলা, ওসি মার্কেট ও ওসি রোডের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তাতে কারো নাম নয়, ব্যবহার করা হয়েছে সরকারি চাকরির পদবি। এসব সম্পদের যিনি মালিক, তিনি পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা, তাঁর পদবি ওসি। এটা কারো নাম নয়। তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। যেহেতু পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি নিযুক্ত হন, তাই নিজের অর্জিত সম্পদের সঙ্গে নির্দ্বিধায় ওসি শব্দটি যোগ করে নিয়েছেন। সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রক্ষার কৌশল হিসেবেই যে এমন নামকরণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে পুলিশের পরিদর্শক মো. সোহরাব মিয়ার যে কাহিনি উঠে এসেছে, তা পড়লে অবাকই হতে হয়। আলাদিনের চেরাগ হাতে পাননি ঠিকই, কিন্তু পুলিশের চাকরি তো পেয়েছিলেন! পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা মো. সোহরাব মিয়ার বেতন এখন সাকল্যে কত! চাকরিজীবনের শুরু থেকে প্রতিটি ধাপে কত টাকা বেতন পেয়েছেন তিনি? এখন কত পান? এই টাকায় সংসার নির্বাহ করার পর কি এমন অঢেল সম্পদ অর্জনের কোনো সুযোগ আছে তাঁর? তাহলে এই সম্পদ তিনি অর্জন করলেন কী করে? অসাধু উপায়ে? আমরা মনে করি, এই খবরের সূত্র ধরে মো. সোহরাব মিয়ার সম্পদ অর্জনের উৎস সন্ধান করা প্রয়োজন। এমন আরো যত সোহরাব মিয়া আছেন, তাঁদের খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভাগে শুদ্ধি অভিযান জরুরি নয় কি?


মন্তব্য