kalerkantho

খুনখারাবি বাড়ছেই

প্রতিরোধে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খুনখারাবিসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব দেখে মনেই হয় না যে দেশে পুলিশি তৎপরতা বলে কোনো কিছু অবশিষ্ট আছে। শুধু গতকাল বৃহস্পতিবারের খবরের কাগজেই রয়েছে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা। খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। যশোরে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে নিজ বাড়িতে বোমা মেরে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফরিদপুরে ঘরে ঢুকে আপন দুই বোনকে কুপিয়েছে এক বখাটে। সাতক্ষীরায় এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। মুন্সীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সাতজন। নারায়ণগঞ্জে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বগুড়ার কাহালুতে মা, মেয়ে ও শাশুড়িকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। গতকালের অনলাইনেও এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার খবর এসেছে। গাজীপুরে নর্দমায় মিলেছে অজ্ঞাত যুবকের লাশ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তালাবদ্ধ ঘর থেকে এক নারী ও তাঁর নাতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হতাহতের এসব ছাড়াও রয়েছে মাদকের বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নারী ও শিশু নির্যাতনের আরো অনেক খবর। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এসব যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে। তাহলে পুলিশিব্যবস্থার সার্থকতা কোথায়?

অপরাধীরা অপরাধ করেও যদি পার পেয়ে যায়, শাস্তি না হয়, তাহলে যেকোনো সমাজে অপরাধ বেড়ে যায়। আর সেই অপরাধ দমনের জন্যই রাষ্ট্র থেকে পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কী হচ্ছে? অভিযোগ আছে, অপরাধীরা প্রভাবশালী হলে বা বিশেষ বিনিময় পেলে পুলিশ অপরাধীরই পক্ষ নেয়। তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়। বিচারে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না কিংবা অপরাধীর শাস্তি হয় না। খুন হয়ে যায় আত্মহত্যা বা অস্বাভাবিক মৃত্যু। এমনকি পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধীচক্রকে লালন অথবা নিজেই অপরাধে যুক্ত হয়ে পড়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। এ অবস্থায় দেশে অপরাধ না বাড়ার কোনো কারণ আছে কি?

সমাজের খারাপ দিকগুলো বা পতনের লক্ষণগুলো সব সময়ই দ্রুতগতিতে হয়। উন্নয়ন এত সহজে হয় না। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধঃপতন বর্তমানে যে ত্বরিতগতিতে হচ্ছে, তা অবিলম্বে ঠেকাতে হবে। দল-মত বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে অপরাধ ঠেকাতে হবে। কোনো অপরাধী যেন কোনোভাবেই পার না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশের অপরাধসংশ্লিষ্টতা দূর করতে প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সমাজকে বসবাসযোগ্য রাখতে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।


মন্তব্য