kalerkantho

বিকাশে অর্থপাচার

যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করুন

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিকাশে অর্থপাচার

বিদেশে অর্থপাচার বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা। এর ফলে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতি উৎসাহিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য মতে, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। অথচ এর অর্ধেক অর্থও দেশে বিনিয়োগ হলে দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতির অনেক উন্নয়ন হতো। সম্প্রতি অর্থপাচারের ক্ষেত্রে আরো ভয়ংকর একটি ধারা সূচিত হয়েছে। আর তাতে প্রধান ভূমিকা রাখছে দেশের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল ব্যাংকিং। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিকাশ। গতকাল কালের কণ্ঠে এ সম্পর্কিত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি করে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অপব্যবহার রোধ করার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলো তাহলে কী করছে?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় বিকাশ এজেন্টদের অনেক কো-এজেন্ট রয়েছে অনেক দেশে, বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি অর্থ পাঠায়। বিদেশে বিকাশের এজেন্ট বা কো-এজেন্ট নিয়োগ অবৈধ হলেও এরা দিব্যি তা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রবাসীরাও সুলভে ও দ্রুততম সময়ে টাকা পাঠানো যায় বলে এ পথই বেছে নেয়। জানা যায়, কো-এজেন্টরা সেসব দেশে অর্থ নিয়ে শুধু তথ্য পাঠায় দেশের এজেন্টের কাছে। দেশের এজেন্ট পরে নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন নম্বরে নির্দিষ্ট অর্থ পাঠায়। অন্যদিকে দেশ থেকে যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায় তারা দেশীয় এজেন্টকে টাকা দিয়ে বিদেশে সেই অর্থ উঠিয়ে নেয়। এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে চোরাচালানিরা। জঙ্গিদের অর্থ লেনদেনেও পদ্ধতিটির ব্যবহার রয়েছে। এ ধরনের হুন্ডি ও মুদ্রাপাচার দ্রুত বন্ধ করা না গেলে দেশ ক্রমেই এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের প্রবাসী আয় কমছে। তারও একটি প্রধান কারণ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই অপব্যবহার।

বাংলাদেশের উন্নয়ন বা এগিয়ে চলাকে স্থায়ী রূপ দিতে হলে এই ছিদ্রপথগুলো দ্রুত বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এমন অপব্যবহার বন্ধ করা খুব কঠিন কাজ নয় বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। আইনের ব্যত্যয়গুলো খুঁজে বের করতে হবে এবং ব্যত্যয়কারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ ব্যাপারে আরো তৎপর হতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকেও যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে আরো সহজে ও দ্রুত অর্থ পাঠাতে পারে সে ব্যবস্থাও করতে হবে। প্রেরক ও প্রাপক কেউ যেন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে কিংবা পেতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে, তা রক্ষা করার জন্যই সব ধরনের মুদ্রাপাচার রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি জঙ্গিবাদের অর্থায়ন ঠেকানোর জন্যও এ ধরনের মুদ্রাপাচার রোধ করা জরুরি।


মন্তব্য