kalerkantho


জনকল্যাণে রাজনীতি

পূরণ হোক জাতির প্রত্যাশা

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জনকল্যাণে রাজনীতি

যেকোনো দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। জনকল্যাণমুখী রাজনীতিই পারে একটি দেশ ও জাতিকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে। বাংলাদেশের জন্ম রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-নির্বিশেষে দল ও মতের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথটি কখনো সুগম ছিল না। এখানে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণ সংগ্রাম করেছে। তবে অনেক বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশের আজকের অর্জন খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছে। দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি আমাদের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও অগ্রগতির দিকটিই তুলে ধরেছেন। আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসেবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে। ‘২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে’—জাতির এই প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি তিনিও করেছেন। এর জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দূরদৃষ্টির প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও সুস্থ রাজনীতির বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, কাজের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই একজন রাজনীতিকের বড় অর্জন। একজন রাজনীতিক যদি গণমানুষের পক্ষে থাকেন ও সবার সমর্থন পান, তাহলে অর্থ-বিত্ত-শক্তি কোনো কিছুই তাঁর সঙ্গে পেরে ওঠে না।

রাজনীতিকদের তো গণমানুষের পক্ষেই থাকতে হবে; যদিও অতীতে আমরা এর ব্যত্যয় দেখেছি। একটা সময়ে রাজনীতিতে পেশিশক্তির প্রভাবও ছিল লক্ষণীয়। সেই অবস্থা থেকে রাজনীতিকে বের করে আনতে না পারলে যে ক্ষতি হয় তারও উদাহরণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আছে। সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে কাজ করলে মানুুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করা যায়। আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, সুশাসন ও দেশের উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে চলে। আদর্শচ্যুত রাজনীতি সমাজ বা রাষ্ট্রকে কিছু দিতে পারে না। তখন হাতে গোনা কিছু মুখ শীর্ষে উঠে যায়। আবার নেতৃত্ব অযোগ্য ও অদক্ষ হলে নৈরাজ্য দেখা দেয়। এমন অনেক উদাহরণও এ সমাজে রয়েছে। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনীতির গুণগত মানের ওপরই নির্ভর করে রাষ্ট্রের উন্নতি। এ জন্য রাজনৈতিক মূল্যবোধের বিষয়টিও ভুলে গেলে চলবে না। বলতে দ্বিধা নেই, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আদর্শ, জনকল্যাণ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতা কিছুটা হলেও দুর্বল হয়েছে। রাজনীতি অনেকের জন্য বিত্তবৈভব অর্জনের হাতিয়ার হলেও সৎ, যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকের অভাব নেই। কাজেই সদিচ্ছা থাকলে কোনো শক্তিই জাতির প্রত্যশা পূরণে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির বিকাশ রোধ করতে পারবে না বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য