kalerkantho


পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন প্রয়োজন

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তার ভাইকে মারধরের ঘটনায় খুলনার বটিয়াঘাটা থানার বাইনতলা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে পাঁচ পুলিশ কনস্টেবলকে। সারা দেশে বখাটেপনা বা উত্ত্যক্তের নামে যে হারে নারী নির্যাতন বেড়ে চলেছে, তাতে সমাজে এমন উদাহরণ তৈরি হওয়া প্রয়োজন ছিল। দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বখাটেপনা। স্কুল-কলেজগামী মেয়েরা বখাটেদের অত্যাচারের শিকার হচ্ছে। গৃহবধূরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বখাটেপনা রোধে আইন হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেক স্থানে বখাটেদের শাস্তিও দিয়েছেন। কিন্তু এই অপতৎপরতা বন্ধ করা যায়নি। বখাটেপনা নামের যৌন-সন্ত্রাস থেকে রক্ষা পেতে অনেক স্থানে মেয়েরা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মা-বাবা-অভিভাবক, এমনকি শিক্ষককেও প্রাণ দিতে হয়েছে। খুলনার ঘটনাটিও প্রায় একই রকম। বটিয়াঘাটা উপজেলার নারায়ণখালী গ্রামের মেয়েটি স্কুলে যাওয়ার পথে পুলিশের এক কনস্টেবল তাকে উত্ত্যক্ত করেন। মেয়েটির ভাই এর প্রতিবাদ করলে তাকে ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আটকে রাখা হয় হাজতে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ফাঁড়িতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। উত্তেজিত জনতা ফাঁড়ি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে বটিয়াঘাটা থানার ওসি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।   

খুলনার ঘটনাটি দুই কারণে উদাহরণ হয়ে থাকবে। সমাজের নির্যাতিত মানুষের ভরসা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল এই বাহিনীর সদস্যরাই যদি যৌন নির্যাতন করেন, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। অভিযুক্ত সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করেই থেমে থাকেননি তাঁরা। ফাঁড়ির সব সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। উত্ত্যক্তের ঘটনায় পুলিশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক মনোভাব স্থানীয়ভাবে সৃষ্টি হয়েছিল, সবাইকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর তা অনেকাংশ কেটে যাবে। অনেক সময় দেখা যায় অভিযুক্তদের ব্যাপারে, বিশেষ করে পুলিশ অভিযুক্ত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকে। কিন্তু খুলনায় তা ঘটেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে জনরোষ প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। আমরা আশা করব, সারা দেশেই এ ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি হবে এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু পুলিশ সদস্য নয়, দেশের যেকোনো প্রান্তে অভিযোগ পাওয়া গেলে এভাবেই রুখে দাঁড়াতে হবে। পুলিশের ঘটনাটি হয়তো বিচ্ছিন্ন; কিন্তু বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষায় এমন পদক্ষেপই নিতে হবে।


মন্তব্য