kalerkantho


নিয়োগ পরীক্ষা ভণ্ডুল

চাকরিপ্রার্থীরা কেন হেনস্তা হবেন?

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন সমন্বিত আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে পরীক্ষা দিতে পারেননি সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী। কেন্দ্রে আসন না পেয়ে ভাঙচুরও করেছেন তাঁরা। কর্তৃপক্ষ নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মিরপুরের একটি কলেজকেন্দ্রে পাঁচ হাজার ৬০০ প্রার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি বেঞ্চে পাঁচ থেকে ছয়জন করে বসানোর পরও প্রার্থীদের জায়গা হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন অবস্থা কেন সৃষ্টি হবে? পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এ কেমন আচরণ!

দেশে শিক্ষিত ও যোগ্য বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ উচ্চশিক্ষা নিয়ে বেরিয়ে আসছেন। কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। উপযুক্ত প্রার্থীদের সবারই প্রথম পছন্দ সরকারি চাকরি। স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। যেকোনো পরীক্ষার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রার্থীদের তালিকা ও সংখ্যার হিসাব থাকে। কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, কোথায় কোথায় পরীক্ষা হবে, তারও পরিকল্পনা করা হয়। কোন কেন্দ্রে কতসংখ্যক প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন, তা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করা থাকে। একটি বেঞ্চে কত জন বসে পরীক্ষা দিতে পারেন, এটাও সবার জানা থাকার কথা। সেখানে নির্দিষ্ট আসনের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে গোলযোগ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। সেটাই হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণেই যে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যাদের ওপরই এই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব থাক না কেন, ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটি এর দায় এড়াতে পারে না।

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যার তুলনায় নিয়োগ অনেক কম। কাজেই দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে অনেককে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তাঁদের অনেকেরই রাজধানীতে থাকার জায়গা নেই। আবাসিক হোটেলে থেকেও অনেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। ঢাকায় আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়া বাবদ অনেক টাকা খরচ করতে হয় তাঁদের। তাই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না। ঢাকার বাইরে থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের আবারও ঢাকায় আসতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি ও বাড়তি খরচের এ দায় কে নেবে? ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির তো উচিত ছিল সব পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে দেখা। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা হবে না। একই সঙ্গে এই পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়েও সবাইকে ভাবতে হবে।



মন্তব্য