kalerkantho


ত্রাণ নিয়ে ব্যবসা

এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু আশ্রয় নয়, নতুন করে আসা সাত লাখ মানুষের খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের একার পক্ষে লোকবল দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে বিভিন্ন এনজিওর সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব বেসরকারি সাহায্য সংস্থা ত্রাণের নামে রীতিমতো ব্যবসা করছে। মানবিক সহায়তার নামে এসব এনজিও বাণিজ্য করছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর যে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্ত ৯টি এনজিওর মধ্যে বিদেশি এনজিও-ও রয়েছে। উল্লেখ্য, বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য ৯০টি এনজিও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এনজিও ব্যুরোকে দেওয়া জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন থেকে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, খোলাবাজার থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে ডাল কিনে তা প্যাকেটে ভরে রোহিঙ্গাদের প্যাকেজিং খরচ দেখানো হচ্ছে ৯৩ টাকা। আরেকটি এনজিও ১৪০ টাকা কেজি দরের পাঁচ কেজি ডালের পরিবর্তে ৭০ টাকা কেজি দরের তিন কেজি করে ডাল দিচ্ছে। প্রতিটি রোহিঙ্গা পরিবারকে ২০০ টাকা দামের দুটি করে গামছা কিনে দেওয়ার কথা থাকলেও একটি এনজিও ৮০ টাকায় একেকটি গামছা কিনে কেটে দুই প্যাকেটে ভরে দুটি গামছা হিসেবে বিতরণ করছে। আবার ২৮ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার তাঁবু দেওয়ার কথা যে এনজিওটির, তারা দিয়েছে ২৪ হাজার টাকা দামের তাঁবু। পাঁচ হাজার পরিবারের জন্য ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা স্থাপনের নির্দেশ পাওয়ার পরও তা করেনি এনজিওটি। এনজিওগুলোর এমন আরো অনেক অনিয়ম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরজুড়ে।

মানবিক কারণে বাংলাদেশ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন আশ্রয়শিবিরগুলোতে ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশের এই অর্জন ধরে রাখা যাবে না। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতায় কোনো খাদ নেই। কিন্তু সেখানে নানা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এনজিওগুলো যদি ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে যায়, তাহলে সেবা ব্যাহত হবে। বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যেসব এনজিওর কার্যক্রমে এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। প্রয়োজনে তাদের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ত্রাণ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা যেতে পারে।

 


মন্তব্য