kalerkantho


বিমানবন্দরে হয়রানি

মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মালয়েশিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশিরা হয়রানির শিকার হয়, বিশেষ করে বিমানবন্দরে। প্রায়ই গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়। গত ডিসেম্বরে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হন বাংলাদেশ সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সচিবসহ ১২ জন কর্মকর্তা। বিষয়টি প্রীতিকর নয়। অন্য সব বাংলাদেশির ক্ষেত্রে কী হয় সেটা সহজে অনুমেয়। বিস্তর অভিযোগ রয়েছে, অন্য দেশের যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমে যথাসময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে চলে যায়, অথচ বাংলাদেশিদের নিয়ে টানাহেঁচড়া চলে। কারণ ছাড়াই কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অনেককে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এটি মানসিক নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। কাউকে বিমানবন্দরের ডিটেনশন সেলে রাখার পর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সন্দিহান হয়ে পড়েন। সব ঠিক থাকার পরও তাঁরা সন্দেহমুক্ত হতে পারেন না। খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁরা যা করেন, তাকে হয়রানি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। অথচ অন্য কোনো দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন না তাঁরা। ট্যুরিস্ট ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। এ দুই ধরনের ভিসাধারীদের হয়রানির শিকার হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে। এর জন্য মূলত দায়ী কিছু জনশক্তি রপ্তানিকারক। ট্যুরিস্ট ও স্টুডেন্ট ভিসায় শ্রমিক পাঠাচ্ছে তাদের কয়েকটি সিন্ডিকেট। কলিং ভিসায় অভিবাসন ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেকে এসব সিন্ডিকেটের দ্বারস্থ হন। তাদের কারণে প্রায় সব বাংলাদেশিকেই সন্দেহের চোখে দেখে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে বাংলাদেশিরা যে হয়রানির শিকার হয় সে কথা মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারও বলেছেন। তবে অবহিত হলে তাঁরা মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে বলেন। মাঝেমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়াও হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের ছয় শতাধিক ইমিগ্রেশন পুলিশকে বদলি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা আরো বলিষ্ঠ হওয়া দরকার। তবে এই সমস্যা দূর করার দায় শুধু তাদের নয়; বাংলাদেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এবং জনশক্তি রপ্তানিকারকদের প্রতিষ্ঠান বায়রার আরো তৎপর হওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে। কাজটি সহজ নয়, তবু কোনো শ্রমিক যাতে উদ্দেশ্য গোপন করে ট্যুরিস্ট ভিসায় কোথাও যেতে না পারে, সে বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই তা করতে হবে। অন্যদিকে অসাধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের ছলচাতুরী বন্ধ করার দায়িত্ব বায়রাকে নিতে হবে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও উচিত নয় সন্দেহের বশে গণহারে বাংলাদেশিদের হয়রানি করা।


মন্তব্য