kalerkantho


শিশু অপহরণ-খুন চলছেই

এ প্রবণতা রোধে ব্যবস্থা নিন

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিশু খুন, শিশু অপহরণ প্রভৃতি অপরাধ বেড়েই চলেছে। অপহরণকারীদের হাতে বা আত্মীয়ের হাতে বা কর্মক্ষেত্রে মালিকের হাতে শিশুদের খুন, অপহরণ, নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এসব নিয়ে শুধু দেশের মানুষ নয়, বিদেশি কূটনীতিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে ২০১৭ সালে এক হাজার ৬৭৫ শিশু হত্যা বা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৩৯ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, আত্মহত্যা করেছে ১১৭ শিশু এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৩৭ শিশুর। ২০১৮ সাল শুরু হতে না হতেই শিশু খুনের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামে স্কুলছাত্র আদনান ইসফাতকে (১৫) ছুরি মেরে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। মহানগরীর জামালখান এলাকায় তার বাসার কাছে এ ঘটনা ঘটে। ইসফাত সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পুলিশ বলছে, স্কুলছাত্র হলেও সে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই এ হত্যার পেছনে অন্য কারণের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইসফাতের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরে খেলতে যাওয়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পরই তিনি ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পান। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের কথা উল্লেখ করে চকবাজার থানার ওসি জানান, চার-পাঁচজন ধাওয়া করে ইসফাতকে ডা. খাস্তগীর স্কুলের দিকে নিয়ে যায়। স্কুলের সামনেই ছুরিকাহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল তারাও বলেছে, চার-পাঁচজন যুবককে দৌড়ে যেতে দেখেছে তারা। তাদের হাতে ছুরি ও পিস্তল ছিল।

অন্যদিকে অপহরণের ১০ দিন পর গত সোমবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের খড়িয়ালা গ্রামের একটি বাড়ির বাথরুমের ওপর থেকে শিশু রিফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই গ্রামেরই ছেলে রিফাত। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। যে বাড়িতে লাশ পাওয়া গেছে ওই বাড়িতে তারা ভাড়া থাকত। গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, টাকার জন্যই রিফাতকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু তার কান্নাকাটিতে ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তারা হাত-পা বেঁধে গলা টিপে তাকে হত্যা করে। হত্যার পরও মুক্তিপণের টাকা আদায় করেছে তারা।

ঘটনা দুটি সর্বসাম্প্রতিক। এমন ঘটনা আকছার ঘটছে; কখনো টাকার কারণে, কখনো তুচ্ছ কোনো কারণে। রাজনৈতিক, পারিবারিক বা অন্য যে কারণই হোক শিশু খুনের ঘটনা সামাজিক সংহতির অভাব ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের স্মারক। এজাতীয় ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় না। রাষ্ট্র ও সমাজকে এ প্রবণতার অবসানের উদ্যোগ নিতে হবে সত্বর। সবার আগে দরকার সরকারের তৎপরতা।


মন্তব্য