kalerkantho


সিটি নির্বাচন স্থগিত

দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিটি নির্বাচন স্থগিত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনপ্রিয় মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে এখানে মেয়র পদে উপনির্বাচন খুব জরুরি হয়ে উঠেছিল। নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেছিল। পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশনে নতুন সংযুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর পদেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৮ জানুয়ারি ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেই অনুযায়ী প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মেয়র পদে মনোনয়নও চূড়ান্ত করেছিল। কিন্তু নতুন সংযুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় অনেকেই সংক্ষুব্ধ হন। তাঁদেরই একাধিক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার হাইকোর্ট প্রথমে উত্তর ও পরদিন বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। এর ফলে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে অনেকটাই ভাটা পড়ে গেছে। অন্যদিকে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পরস্পরকে দোষারোপ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে?

রিটকারীদের পক্ষে যা যা বলা হয়েছে, তা খুবই যৌক্তিক। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শর্তে রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাহলে তাঁর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৩০০ সমর্থক ভোটারের স্বাক্ষর যুক্ত করতে হবে। প্রকাশিত তালিকা না থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নিজে ভোটার হয়েছেন কি না, যাঁদের সমর্থক করা হবে তাঁরা ভোটার হয়েছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে। সমর্থকদের একজনও যদি ভোটার না হয়ে থাকেন কিংবা সমর্থক একজনও যদি কম হয়ে যায়, তখন মনোনয়নপত্রটিই বাতিল হয়ে যেতে পারে। সে অবস্থায় তফসিল ঘোষণার আগেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করা খুবই জরুরি ছিল। অথচ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে পারে আগামী ৩১ জানুয়ারি। এটা অনেকটা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা নয় কি? তদুপরি ডিএনসিসির বৈধতাও যেখানে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে পড়েছে, সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৫-এর ৩ ধারা অনুযায়ী ওয়ার্ডগুলোতে দ্রুত নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক ছিল। আইনের এ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়রসহ ৭৫ শতাংশ নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকলেই শুধু করপোরেশন আইন অনুযায়ী গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। কিন্তু গত বছরের ২৬ জুলাই ডিএনসিসির পুরনো ৩৬টির সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় মোট ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪। এই ১৮টিতে কাউন্সিলর নির্বাচন না হওয়ায় মোট নির্বাচিত কাউন্সিলরের সংখ্যা ৭৫ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। এ অবস্থায় ডিএনসিসির বৈধতার প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে।

আমরা আশা করি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও এগিয়ে আসতে হবে। আমরা আশা করি, দুই সিটি করপোরেশনের স্থগিত হওয়া নির্বাচনগুলো সম্ভাব্য দ্রুততম সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।


মন্তব্য