kalerkantho


অতি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ

বাজারে শতভাগ নজরদারি প্রয়োজন

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



২০১৭ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল অস্থিতিশীল বাজার। কাছাকাছি সময়ে পণ্যমূল্যের দাম এভাবে বাড়েনি। নানা অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বাজারে তার জের এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের বছরে এসে সরকারের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বাজার, এমন আশঙ্কা রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে।

কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছামতো বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে, ভোক্তাদের জিম্মি করে অসাধু উপায়ে মুনাফা তুলে নেওয়া হবে, এমন প্রবণতা রোধ করার একটা উপায় খুঁজে বের করা প্রয়োজন ছিল। দেশের বাজার অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। অনেক কৃষিজাত পণ্যও বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ এবার চাল আমদানি করেছে। পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে ডাল, মসলা, তেল—প্রায় সব পণ্যই আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেশি, এই অজুহাতে যখন-তখন দাম বাড়িয়ে দেওয়া যেন ব্যবসায়ীদের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বাইরের বাজারে কোনো পণ্যের দাম কমে গেলে তার কোনো প্রভাব দেশের বাজারে পড়ে না। গত বছরের প্রথমার্ধে চালের বাজার সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। অদৃশ্য বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজির কাছে সবাই যেন অসহায়। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও বাজার সিন্ডিকেটের কাছে যেন আত্মসমর্পণ করে বসে আছে। টিসিবিকে সক্রিয় করার কোনো উদ্যোগ নেই। বাজারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিও যথেষ্ট নয়। এর সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহার করছে ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় বাজারে নজরদারি করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে। রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা বাজারে নজরদারি করবেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই অভিযান শুরু হবে বলে জানা গেছে। অভিযান চালিয়ে প্রাপ্ত তথ্য প্রতিবেদন আকারে জমা দেওয়া হবে এনবিআর চেয়ারম্যানের দপ্তরে। বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা অসাধু ব্যবসায়ীদের তালিকা বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অতিরিক্ত মুনাফার জন্য কোনো ব্যবসায়ী চড়া দামে পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে।

এনবিআরের এই কার্যক্রমের পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়েও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।


মন্তব্য