kalerkantho


প্রশ্নের মুখে জলবায়ু তহবিল

অর্থের ব্যবহার স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত হোক

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০




প্রশ্নের মুখে জলবায়ু তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী এর ক্ষতিকর অভিঘাত এখন আর কোনো ধারণাগত বিষয় নয়। পৃথিবীর নানা প্রান্তেই তা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অনেক দ্বীপরাষ্ট্র এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশেও এর ক্ষতিকর অভিঘাতের অনেক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে। গবেষণা সংস্থা জার্মান ওয়াচের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে রাখা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় ছয় নম্বরে। উপকূলীয় অঞ্চলের তিন কোটি মানুষ রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে। সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় আমরা কী করছি? ২০১০ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটি) গঠন করা হলেও এর কর্মকাণ্ড নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। সঠিক পরিকল্পনা না থাকা, তহবিল বণ্টনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও কম নয়। এভাবে আমরা কি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হব? না হলে পরিণতি কী হবে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাবে। উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো সমুদ্রের নোনা পানিতে তলিয়ে যাবে এবং চাষাবাদ ব্যাহত হবে। বহু মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। ঝড়-ঝঞ্ঝা ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা এবং তীব্রতা—দুটিই বৃদ্ধি পাবে। স্বাভাবিকভাবেই এসবে ক্ষতির পরিমাণও ক্রমেই বাড়বে। অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি দুটিই বাড়বে। ফলে একদিকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে, অন্যদিকে কিছু এলাকায় মরুকরণ প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। পানি ও মশাবাহিত রোগব্যাধি মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন আরো অনেক ক্ষতিকর অভিঘাত নেমে আসতে পারে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। তাই পৃথিবীব্যাপী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হওয়া সত্ত্বেও এখানে ঝুঁকি মোকাবেলার প্রস্তুতি চলছে অত্যন্ত ঢিমেতালে। তার ওপর তা চলছে অগোছালোভাবে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই তহবিলের এক কোটি ৩০ লাখ টাকা খরচ করে গাজীপুরে সাফারি পার্কের জন্য দুটি উন্নতমানের মিনিবাস কেনা হয়েছে। গাজীপুরের যে এলাকায় সাফারি পার্ক রয়েছে, সাধারণত সেখানে বন্যা হয় না। কে জানে, তার পরও যদি বন্যা হয়ে যায়, তখন এ দুটি মিনিবাসে এখানকার প্রাণীগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না! হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের পৌর মেয়র দুই দফায় সাত কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন এই তহবিল থেকে। বন্যামুক্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চার কোটি টাকা ব্যয়ে বিশাল আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা বরগুনা জেলার বেতাগী কিংবা আমতলী উপজেলায় তহবিল থেকে একটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। এ রকম অভিযোগ অনেক। রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণ বা এলজিইডির যেসব করার কথা সেসব কাজে এই তহবিল থেকে বরাদ্দ যায়, অথচ জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য অনেক জরুরি কাজেই কোনো বরাদ্দ নেই। আবার প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ তো আছেই।

আমরা চাই, এই তহবিলের অর্থ সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হোক এবং সেখানে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।

 

 


মন্তব্য