kalerkantho

রমজানে বাজারদর

নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখনই ব্যবস্থা নিন

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



পবিত্র রমজান মাসে বাংলাদেশের বাজারের চেনা ছবি হচ্ছে, এই মাস শুরুর আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে শবেবরাতের আগে ও পরে জিনিসপত্রের দাম ভোক্তার ক্রয়সীমার বাইরে চলে যায়। অথচ বিশ্বের কোথাও এমনটি দেখা যায় না। বরং প্রায় সব মুসলিম দেশেই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যায়। স্বস্তিতে থাকে ভোক্তারা। ব্যতিক্রম বোধ হয় বাংলাদেশ। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অজুহাতের কমতি থাকে না। বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে না, প্রতিবছর রোজার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটে না। মাছ-মাংস থেকে শুরু করে পাঁচ-ছয়টি পণ্যের দাম সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়, এমন বক্তব্য উঠে এসেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির এক আলোচনাসভায়। অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্যের দাম বাড়াতে অনেক সময় উৎপাদন বন্ধ রাখার কৌশলও নেওয়া হয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। রোজায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি অসাধু গোষ্ঠী জড়িত বলে ওই আলোচনাসভায় বক্তারা জানিয়েছেন। এসব ব্যবসায়ীর সঙ্গে সরকারের অসাধু কর্মকর্তারাও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থাপনা মোটেই সুসংগঠিত নয়। এর সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীকে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। কোনো কোনো সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেও পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয় রোজা সামনে রেখে। মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভোক্তারা। বাংলাদেশের বাজারে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কথা শোনা যায়, যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া সব পদক্ষেপই যেন ব্যর্থ হয়ে যায়। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রাইস কন্ট্রোলিং আইন আছে। রমজান সংযম পালনের মাস হলেও এই মাসেই যেন সবচেয়ে বেশি অসংযমী হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকার পরও আমাদের দেশে নানা অজুহাতে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় কৃত্রিম সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে। আবার এই রমজান মাসেই ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বাজারে বিক্রি করা হয়। এ অবস্থায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় বিকল্প হতে পারে সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা। টিসিবিকে সক্রিয় করা গেলে বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে অনেকের ধারণা।

রোজা আসছে, এরপর ঈদ। রোজা ও ঈদে পণ্যমূল্য যাতে ভোক্তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে সে জন্য সরকারকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়ন্ত্রিত বাজার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

 

 

 



মন্তব্য