kalerkantho


খুলনা সিটি নির্বাচন

নতুন মেয়রকে অভিনন্দন

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে মঙ্গলবার। পর্যবেক্ষকদের অভিমত, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। বিজয়ী দল আওয়ামী লীগও দাবি করেছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে। যদিও আমাদের দেশে বিজয়ী বা বিজিত কোনো দলের কথারই তত গ্রহণযোগ্যতা নেই সাধারণ মানুষের কাছে। কারণ তাদের কথা বাস্তব পরিস্থিতির নিরিখে নয়; বরং জয়-পরাজয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাদের প্রার্থী জিতলে সব ঠিক, নির্বাচন প্রশ্নাতীতভাবে সুষ্ঠু আর না জিতলে বিপরীত মূল্যায়ন। এ মানসিকতা ও চর্চার ধারাবাহিকতা দেখা যায় বিএনপির কথায়। তারা বলেছে, নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে তারা। তাদের মেয়র পদপ্রার্থীর বক্তব্য, ‘সরকারি দল ভোট ডাকাতির নির্বাচন করেছে।’ শতাধিক কেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বড় ব্যবধানে জিতেছেন। মোট ২৮৯টির মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়ে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২টি আর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়ে এক লাখ আট হাজার ৯৫৬টি। অনিয়মের অভিযোগে তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। মোট পাঁচজন মেয়র পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্য তিনজন সিপিবি (কাস্তে), জাতীয় পার্টি (লাঙল) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তালুকদার আবদুল খালেক আবারও খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র হলেন। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি মেয়র ছিলেন। আওয়ামী লীগের জয়ের পেছনে নগরীর ব্যাপক উন্নয়ন মূল ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, সার্বিক বিবেচনায় কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। গোলযোগ বা ভোট দেওয়ায় অনিয়মের কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিমাণ অনিয়ম আমাদের ভোট-সংস্কৃতির নিরিখে মামুলি হলেও গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চর্চায় কোনো ব্যত্যয়ই কাম্য হতে পারে না, গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পর্যবেক্ষকদের কথায় আস্থা রাখলে বিএনপির অভিযোগে কান দেওয়া গেলেও গুরুত্ব দেওয়া যায় না। তারা ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলেছে। যথারীতি বিজয়ী দল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এমন বিপরীতমুখী অবস্থান এ কথাই প্রমাণ করে যে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি দীর্ঘ ৪৭ বছরেও মান্যতা, সহনশীলতার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছেনি; কবে পৌঁছাবে বলা মুশকিল। তবু চলমান ধারা অব্যাহত থাকুক। খুলনা সিটির নতুন মেয়রকে আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা আশা করি, ভোটারদের ও শহরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা তিনি পূরণ করবেন, তাদের বিষয়ে আন্তরিক হবেন।

 

 


মন্তব্য