kalerkantho


ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক

বিশ্বের শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাক

১৪ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠক

মাস তিনেক উষ্ণ বাক্যবিনিময়, আক্রমণ পাল্টা-আক্রমণের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া আলোচনায় বসার ইচ্ছা প্রকাশ করে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ার ফুরসত পায় কোরীয় উপদ্বীপ ও এশিয়ার মানুষ। স্বস্তিবোধ দেখা দেয় গোটা বিশ্বে। অথচ একসময় মনে হয়েছে, কোরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাত ক্ষণের ব্যাপার মাত্র। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুবুদ্ধির পরিচয় দিলেন, বললেন—আলোচনার অবকাশ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও বিষয়টিকে আমলে নিতে বিলম্ব করেননি। দক্ষিণ কোরিয়াও স্বাগত জানায়, স্বাগত জানায় গোটা বিশ্ব।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তত এটুকু বুঝেছিলেন, উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালানোর সামরিক সামর্থ্য তাঁর রাষ্ট্রের থাকলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ না খুইয়ে ‘বিজয়ী বেশে ফেরা’ তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু এই ‘পশ্চাদপসরণ’ মানতে পারছিল না মার্কিন যুদ্ধবাজচক্র। এ চক্রের সঙ্গে রাষ্ট্রেরই বিভিন্ন সংস্থা জড়িত। তারা ট্রাম্পকে বিপাকে ফেলার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়েছে। একপর্যায়ে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। বলা হয়ে থাকে, তাঁর কারণেই (পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ভূমিকাও কম নয়) ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু অস্ত্রবিষয়ক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দিন কয়েক পরই কিমের সঙ্গে নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠক বাতিল করেন ট্রাম্প। আবার শঙ্কার মেঘ দেখা দেয় বিশ্বজুড়ে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। কোরীয় উপদ্বীপে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে; অস্বস্তি দেখা দেয় চীনে, জাপানে ও রাশিয়ায়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলতে শুরু করেন, আরেকবার নিওকন যুদ্ধবাজদের কাছে হারলেন ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্রকে বোধ হয় আর স্বাভাবিক কূটনীতির ধারায় ফেরানো গেল না। মার্কিন প্রশাসনে বিরাজমান দ্বন্দ্বের লক্ষণ ট্রাম্পের ‘দৈবাৎ আচরণ’। বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও দ্বিধায় ভুগছিলেন তিনি এবং আরেকবার সবাইকে চমকিত করে, ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই বললেন, বৈঠক হবে; পূর্বনির্ধারিত স্থানে এবং সময়েই হবে। এবার তিনি যুদ্ধবাজদের পরাজিত করতে সক্ষম হলেন।

ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তের পর যাঁর চরম উত্তেজিত মনোভাব দেখানোর কথা ছিল, তিনি কিম জং উন। অথচ তাঁর আচরণ ছিল বুদ্ধের মতো; বৈঠক হবে—এ আশার বাণী শুনিয়েছেন তিনি। কূটনীতির ময়দানে ট্রাম্পকে পরাস্ত করলেন তিনি। অবশেষে বৈঠকটি হলো, মঙ্গলবার পূর্বনির্ধারিত দিনেই হলো; নেপথ্যে চীন-রাশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকা ছিল। এ বৈঠক অবশ্যই ঐতিহাসিক। উল্লেখ করার মতো ফল পাওয়া যায়নি বটে, তবে শূন্য হাতেও কেউ ফেরেননি। একটি সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। আরো আলোচনা হবে, বলেছেন উভয়ই। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির পথরেখা অঙ্কিত হয়েছে। সে রেখা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বরাবর পৌঁছবে—এ আশাই করে এশিয়াবাসী, বিশ্ববাসী।


মন্তব্য