kalerkantho


জানা-অজানা

ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রি

[অষ্টম শ্রেণির চারু ও কারুকলা বইয়ে ময়নামতির দর্শনীয় স্থানের কথা উল্লেখ আছে]

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ময়নামতি ওয়্যার সিমেট্রি

ময়নামতির গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর একটি ওয়্যার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) যে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হয়, তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে বার্মা, আসাম ও বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র বানানো হয়।

বাংলাদেশ অংশে পড়ে দুটি সমাধিক্ষেত্র, যার একটি কুমিল্লায়, আরেকটি চট্টগ্রামে।

 

কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের কাছে এর অবস্থান।

১৯৪৬ সালে কমনওয়েলথ ওয়্যার গ্রেভস কমিশন (সিডাব্লিউজিসি) সমাধিক্ষেত্রটি প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে এখানে বার্ষিক প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি সমাধি আছে। তিনজন নাবিক, ৫৬৭ জন সৈনিক ও ১৬৬ জন বৈমানিকের সমাধি এখানে। এদের মধ্যে শুধু ৭২৩ জনের পরিচয় জানা গেছে।

সমাধিক্ষেত্রটিতে একটি তোরণ ঘর আছে, এর ভেতরের দেয়ালে ইংরেজি ও বাংলায় ইতিহাস ও বিবরণ দেওয়া আছে। ভেতরে প্রবেশ করতেই সোজা চওড়া রাস্তা।

দুই পাশে সারি সারি সমাধিফলক। সেখানে নাম, মৃত্যুর তারিখ, পদবির পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক লেখা আছে। সমাধিক্ষেত্রে একটি সিঁড়িযুক্ত বেদি আছে। বেদির দুই পাশে রয়েছে আরো দুটি তোরণ ঘর। এসব তোরণ ঘর দিয়ে সমাধিক্ষেত্রের পেছন দিকের অংশে যাওয়া যায়। সেখানেও রয়েছে আরো সমাধিফলক। প্রতি দুটি সমাধিফলকের মাঝখানে একটি করে ফুলগাছ।

 

প্রতিবছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ সমাধিক্ষেত্রে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের প্রতি সম্মান জানাতে আসেন।

♦ আব্দুর রাজ্জাক


মন্তব্য