kalerkantho


এইচএসসি প্রস্তুতি

সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন ♦ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র

নিম্নের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

রাসেল অনেক দিন ধরে আমেরিকায় বসবাস করে। সে স্থানীয় একটি পত্রিকায় দেখতে পায় যে ইউনেসকোর একটি ঘোষণা বাঙালি জাতিকে বিরাট সম্মান দিয়েছে। রাসেল মনে করে, এটা শুধু বাংলাদেশিদের বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়নি, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রতি ইউনেসকো সম্মান দেখিয়েছে।

ক) কত সালে আইউব খান তাঁর মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ ঘোষণা করেন?

খ) ছয় দফা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস—ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ইউনেসকোর ঘোষণায় যে দিবসের প্রতিফলন ঘটেছে, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘উক্ত ঘোষণা শুধু বাংলাদেশিদের প্রতি নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে’—বিশ্লেষণ করো।

উত্তর :

ক) ১৯৫৯ সালে আইউব খান তাঁর মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ ঘোষণা করেন।

খ) ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে জাগ্রত বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে। এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে পূর্ব পাকিস্তান শুধু একটি প্রদেশ নয়, বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অঞ্চল। তাই ছয় দফা আন্দোলনকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস বলা হয়ে থাকে।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ইউনেসকোর ঘোষণায় একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতিফলন ঘটেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগ ও বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উদ্দীপকেও দেখা যায়, আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি রাসেল স্থানীয় একটি পত্রিকায় দেখতে পায়, ইউনেসকোর একটি ঘোষণা বাঙালি জাতিকে বিরাট সম্মান এনে দিয়েছে, যা ইউনেসকো কর্তৃক বাংলাদেশের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি নির্দেশ করে।

 

ঘ) ওই ঘোষণা বলতে ইউনেসকো কর্তৃক বাংলাদেশের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করাকে বোঝানো হয়েছে। ওই ঘোষণা শুধু বাংলাদেশিদের প্রতি নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি রাসেল স্থানীয় একটি পত্রিকায় দেখতে পায় ইউনেসকোর একটি ঘোষণা বাঙালি জাতিকে বিরাট সম্মান দিয়েছে, যা ইউনেসকো কর্তৃক বাংলাদেশের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি নির্দেশ করে। পৃথিবীতে ছয় হাজারেরও বেশি ভাষা রয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর সব ভাষার মানুষ যেন অন্য ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানায় ইউনেসকোর ঘোষণার মাধ্যমে সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে পৃথিবীর সব জাতি একুশে ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ ভাষার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করার পাশাপাশি পৃথিবীর সব ভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।

 

তাই উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ওই ঘোষণা শুধু বাংলাদেশিদের প্রতি নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে।


মন্তব্য