kalerkantho


এসএসসি প্রস্তুতি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

শামীমা ইয়াসমিন, প্রভাষক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন

 

জন কেরি সম্প্রতি একটি দেশ সফর করেছেন, যে দেশটি একটি জনবহুল দেশ এবং দেশটির জলবায়ু মোটামুটি উষ্ণ, আর্দ্র ও সমভাবাপন্ন। জন কেরির উপলব্ধিতে দেশটিতে শীতকাল শুষ্ক ও আরামদায়ক, আর গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র। এ সময় উষ্ণতা হওয়ায় মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে জীবনহানিসহ সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।

ক) কোন দেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল?

খ) ভূমিকম্প বলতে কী বোঝো? ব্যাখ্যা করো।

গ) জন কেরি সম্প্রতি যে দেশটি ভ্রমণ করেছেন, সে দেশটির শীতকালের বর্ণনা দাও।

ঘ) জন কেরির ভ্রমণ করা দেশটিতে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সংঘটিত নানা ঘটনা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল।

খ) ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কখনো কখনো ভূ-ত্বকের কিছু অংশ হঠাৎ হঠাৎ কেঁপে ওঠে। এ কম্পন অত্যন্ত মৃদু থেকে প্রচণ্ড হয়ে থাকে, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। ভূপৃষ্ঠের এরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প বলে। ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে। কেন্দ্রের ঠিক ওপরের ভূপৃষ্ঠের নাম উপকেন্দ্র। কম্পনের বেগ ধীরে ধীরে উপকেন্দ্র থেকে চারদিকে কমে যায়।

গ) জন কেরি সম্প্রতি যে দেশটি ভ্রমণ করেছেন সে দেশটির নাম বাংলাদেশ। তাই প্রশ্নের আলোকে বাংলাদেশের শীতকালের বর্ণনা দেওয়া হলো :

প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতকাল। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে থাকায় বাংলাদেশে এর রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। শীতকালীন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পরিমাণ যথাক্রমে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানুয়ারি মাস বাংলাদেশের শীতলতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় দক্ষিণে সাগর উপকূল থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমেই কম হতে থাকে। ফলে সমতাপ রেখাগুলো অনেকটা সোজা হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অবস্থান করে। জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা চট্টগ্রামে প্রায় ২০ ডিগ্রি, নোয়াখালীতে ১৯.৪ ডিগ্রি, ঢাকায় ১৮.৩ ডিগ্রি, বগুড়ায় ১৭.৭ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ১৬.৬ ডিগ্রি সে.। তবে কোনো কোনো সময় উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা আরো কমে যায় এবং শৈত্যপ্রবাহ হয়ে থাকে।

ঘ) উদ্দীপকের জন কেরির ভ্রমণ করা দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের মিল লক্ষ করা যায়। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল। এটিই দেশের উষ্ণতম সময়। এ সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। গড় হিসাবে উষ্ণতম মাস এপ্রিল। এ সময় সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমে বেশি হয়ে থাকে। যেমন এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজশাহীতে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয়, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে। একই সময় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এ ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলে। এ ছাড়া এপ্রিল ও মে মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায়ই বিভিন্ন প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশ উপকূলে বিশেষত চট্টগ্রাম উপকূলে ব্যাপক সম্পদ ও প্রাণহানি ঘটে। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে উল্লিখিত বর্ণনা থেকে এটা প্রমাণিত হয়, জন কেরির ভ্রমণ করা দেশটি ছিল বাংলাদেশ এবং মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় দেখা দেয়।


মন্তব্য