kalerkantho


অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি

অষ্টম শ্রেণি বাংলা

মংডুর পথে ♦ বিপ্রদাশ বড়ুয়া

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা, ঢাকা   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অষ্টম শ্রেণি বাংলা

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক : প্রকৌশলী মেহেদি হাসান অফিসের কাজে প্রতিবছর দক্ষিণ কোরিয়া যান। সেখানকার পরিকল্পিত রাস্তাঘাট দেখে, অত্যাধুনিক আরামদায়ক গাড়িতে চড়ে তিনি অভিভূত হন। সেখানে প্রতিবারই তাঁর জন্য একটি বিলাসবহুল সুসজ্জিত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। হোটেলে ব্যায়ামাগার, সুইমিং পুল, বলরুমসহ যাবতীয় সুবিধা পেয়ে তিনি মুগ্ধ হন।

ক) আরাকান রাজ্যের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজধানীর নাম কী?

উত্তর : আরাকান রাজ্যের ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন রাজধানীর নাম ম্রাউক-উ।

খ) ফুঙ্গিদের সম্পর্কে ‘মংডুর পথে’ রচনায় কী বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মিয়ানমার অঞ্চলে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা পুরোহিতদের ‘ফুঙ্গি’ বলা হয়।

ফুঙ্গিদের জীবিকা সম্পর্কে লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া বলেছেন যে ভিক্ষা ছাড়া ভিক্ষু বা ফুঙ্গিদের চলবে না। ভিক্ষাই তাদের জীবিকা বলে সকালে তারা খালি পায়ে ভিক্ষা করতে বের হয়। সে সময় তাদের হাতে ভিক্ষা পাত্র বা ছাবাইক থাকে। আগে এটি কাঠ বা লোহা দিয়ে তৈরি হতো। এখন লাক্ষা (গালা, লাল রঙের বৃক্ষনির্যাস) দিয়ে তৈরি হয়। বার্মায় (মিয়ানমার) ফুঙ্গিদের (বৌদ্ধ সন্নাসী) অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হয়।

গ) উদ্দীপকের হোটেলে মেহেদি হাসানের অবস্থা এবং ‘মংডুর পথে’ রচনায় লেখকের অবস্থার পার্থক্য বর্ণনা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের হোটেলে মেহেদি হাসানের অবস্থা এবং ‘মংডুর পথে’ রচনায় লেখকের অবস্থার মধ্যে সুযোগ-সুবিধাগত বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়।

‘মংডুর পথে’ রচনার লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া ইউনাইটেড হোটেলে জায়গা না পেয়ে প্রায় অনাথের মতো বোঁচকা-বুঁচকি নিয়ে অন্য হোটেলে গিয়ে উঠলেন। লেখকের ভাষায়, অবস্থা শোচনীয় বললেও কম বলা হয়। বেড়ার ঘরের দোতলার মাঝবারান্দায় বসেই তিনি বুঝতে পারেন যে ওটা একটি চতুর্থ শ্রেণির হোটেল হলেও হতে পারে। কাঠের মেঝে, কাঠের যেমন-তেমন দেয়াল। বিছানায় গিয়ে পরখ করে দেখতে পেলেন উঁচু-নিচু চষা জমির মতো তোশক। মশারিতে বিচিত্র ও বিপরীতধর্মী নানা রকম উৎকট দুর্গন্ধ। মাথার ওপরে পাখা থাকলেও রাত ৯টার পর বিজলি থাকে না।

অন্যদিকে উদ্দীপকের মেহেদি হাসান দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে যে হোটেলে ওঠেন তা এককথায় বিলাসবহুল। যাবতীয় সুবিধা সেখানে গিয়ে পান বলে তিনি মুগ্ধ। উদ্দীপকের মেহেদি হাসানের এই সুবিধার চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে ‘মংডুর পথে’ রচনার লেখক যে হোটেলে রাত যাপন করেন সেটায়।

ঘ) “উদ্দীপকটি ‘মংডুর পথে’ রচনার সমগ্রভাব প্রকাশ করেনি”—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর : উদ্দীপকটি ‘মংডুর পথে’ রচনার লেখকের চতুর্থ শ্রেণির হোটেলে রাত যাপনের বৈসাদৃশ্যের দিকটি ছাড়া আর কোনো অভিজ্ঞতার বিবরণ নেই বলে এটি সমগ্রভাব ধারণ করেনি।

এ ছাড়া ‘মংডুর পথে’ রচনায় আরো যা রয়েছে, তা হলো আমাদের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ভ্রমণের ফলে লেখক বিপ্রদাশ বড়ুয়া যেসব অভিজ্ঞতা লাভ করেন, তার কিছু বিবরণ এ ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত হয়েছে। মিয়ানমারের পশ্চিম সীমান্তের শহর মংডু দিয়ে লেখকের ওই দেশ সফর শুরু হয়েছিল। এই ভ্রমণকাহিনিতে মংডুর মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে এই রচনায় যেমন ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি সেখানে বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মের লোকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। সেখানকার মেয়েরা অনেকটা স্বাধীনভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্য করে। একসময় মংডু ছিল ‘আরাকান’ (বর্তমানে রাখাইন প্রদেশ) নামের এক স্বাধীন দেশের অংশ। সেখানে ছিল মুলমানদের শাসন। মিয়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রাধান্য থাকলেও মংডুতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলমানের বসবাস লক্ষ করেছেন লেখক।

উদ্দীপকে এ সম্পর্কে শুধু মেহেদি হাসানের দক্ষিণ কোরিয়ার বিলাসবহুল হোটেলে থেকে মুগ্ধতার কথা বলা হয়েছে। উপর্যুক্ত বক্তব্য থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে উদ্দীপকটি ‘মংডুর পথে’ রচনার আংশিক ভাব ধারণ করেছে মাত্র।


মন্তব্য