kalerkantho

দশম শ্রেণি

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান সহকারী শিক্ষক ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দ্বিতীয় অধ্যায়

সৃজনশীল প্রশ্ন

চিত্র দেখে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

ক)   মাইক্রোভিলাই কী?

খ)   লাইসোজোম কী? ব্যাখ্যা করো।

গ)   উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য লেখো।

ঘ)   উদ্দীপকের সংশ্লিষ্ট অঙ্গের সঞ্চালন প্রক্রিয়া বর্ণনা করো।

উত্তর :

ক)   কোষঝিল্লির ভাঁজকে মাইক্রোভিলাই বলে।

খ)   লাইসোজোম এক ধরনের সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু,

     যা জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। এর উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে ফেলে। এর পরিপাক করার উৎসেচকগুলো একটি পর্দা দ্বারা আলাদা করা থাকে; তাই অন্যান্য কোষ এর সংস্পর্শে এলেও হজম হয় না। দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এর সঙ্গে লাগানো কোষগুলো বিনষ্ট হয়ে যায়। কখনো কোষ মারা যায়।

গ)   উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি হলো হৃৎপেশি। নিচে হৃৎপেশির বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো—

     ১। হৃৎপেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিন্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি।

     ২। এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি, শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত।

     ৩। কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক থাকে।

     ৪। হৃৎপেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।

     ৫। হৃৎপেশির সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।

     ৬। হৃৎপেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো।

     ৭। মানব ভ্রুণ সৃষ্টির একটি বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃিপণ্ডের হৃৎপেশিৃ একটি

     নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।

ঘ)   উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রটি হলো হৃৎপেশি। হৃৎপেশির সংশ্লিষ্ট অঙ্গ হলো হৃিপণ্ড। নিচে হৃিপণ্ডের মধ্যে রক্তের সঞ্চালন পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো—

    হৃৎপিণ্ড একটি পাম্পের ন্যায় কাজ করে। হৃৎপিণ্ডের অবিরাম সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সংবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে বলা হয় সিস্টোল ও প্রসারণকে বলা হয় ডায়াস্টোল। হৃৎপিণ্ডের সিস্টোল ডায়াস্টোলকে একত্রে বলা হয় হৃত্স্পন্দন। অলিন্দদ্বয় প্রসারিত হলে দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃিপণ্ডে প্রবেশ করে। যেমন ঊর্ধ্ব মহাশিরার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে, ঠিক একই সময়ে ফুসফুসীয় বা পালমোনারি শিরার মাধ্যম অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাঁ অলিন্দে প্রবেশ করে।

   অলিন্দদ্বয়ের সংকোচনের ফলে নিলয়দ্বয় বেশি প্রসারিত হয়। ফলে ডান অলিন্দ নিলয়ের ছিদ্রপথে ট্রাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং ডান অলিন্দ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান নিলয়ে প্রবেশ করে। ঠিক একসময় বাঁ অলিন্দ ও বাঁ নিলয়ের বাইকাসপিড ভালভ খুলে যায় এবং বাঁ অলিন্দ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বাঁ নিলয়ে প্রবেশ করে। এর পরপরই ছিদ্রগুলো কপাটিকা দ্বারা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিলয় থেকে রক্ত আবার অলিন্দে প্রবেশ করতে পারে না।

 যখন নিলয় সংকুচিত হয়, তখন ডান নিলয় থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে। ঠিক একই সময়ে বাঁ নিলয় থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে সারা দেহে পরিবাহিত হয় এবং উভয় ধমনির অর্ধচন্দাকৃতি কপাটিকগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রক্ত আবার নিলয়ে ফিরে আসতে পারে না। এভাবে হৃৎপিন্ডে পর্যায় ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।



মন্তব্য