kalerkantho

প্রবন্ধ রচনা

বাংলা

অষ্টম শ্রেণি

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা

প্রবন্ধ রচনা থাকবে প্রশ্নপত্রের রচনামূলক (‘গ’ বিভাগ-নির্মিতি) অংশে। প্রশ্নে দুটি বিষয়বস্তুর ওপর রচনা থাকবে, একটি লিখতে হবে। মান ২০

 

অধ্যবসায়

সূচনা : মানবজীবন গতিময়। জীবনের একদিকে যেমন সফলতা রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতাও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিফলতাকেও বরণ করে নিতে হয়। প্রথম চেষ্টাতেই যা শেষ করে ফেলা যায়, তা নিঃসন্দেহে সহজ কাজ; কিন্তু মানুষের জীবনের সফলতা নির্ভর করে কঠিন কাজের সফলতার মধ্যে। আর এ জটিল কাজে সফলতা অর্জন করার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়।

‘জীবনের প্রতি অধ্যায় চাই দৃঢ় প্রত্যয়

চাই ঘাত-প্রতিঘাত লৌহ-কঠিন সত্য হৃদয়’

 

অধ্যবসায় কী?

‘ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি’—কোনো কাজ একবার না পারলে সাফল্য লাভের জন্য বারবার ধৈর্য ও মনোবলের সঙ্গে তা করার নামই অধ্যবসায়। মূলত অধ্যবসায় হলো সাধনার ব্যাবহারিক নাম। দৃঢ় মনোবল ধারণ করে কাজে আত্মনিয়োগ করার সঙ্গে চরিত্রের অন্য গুণগুলোও যখন কাজে লাগানো হয়, তখনই অধ্যবসায়ের পরিচয় পাওয়া যায়। কবির ভাষায় অধ্যবসায়ীর মনোভাব হবে—

‘আসবে পথে আঁধার নেমে,

তাই বলে কি রইব থেমে?’

 

অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা : মানবসভ্যতার মূলে রয়েছে অধ্যবসায়ের বিরাট অবদান। প্রকৃতির বিভিন্ন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে মানুষকে চলতে হয়। অপরিচিত কিংবা প্রতিকূল পরিবেশে প্রতৃতির বিভিন্ন দুর্যোগকে মোকাবেলা করে মানুষ নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে। পরিশ্রম করে অনাবাদি জমিতে ফলিয়েছে ফসল, আগুনের ব্যবহার শিখে তাকে নিজের ভৃত্যে পরিণত করেছে, প্রকৃতিকে জয় করতে গিয়ে সাগর কেটে ভরাট করে নগর গড়েছে, মরুভূমিকে করেছে মরূদ্যান। এভাবে আদিম গুহাচারী মানুষ আজ মহাশূন্যে পাড়ি জমিয়েছে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-শিল্পকলা, দর্শন—প্রতিটি শাখায় মানুষের এই যে অগ্রগতি, তার মূলে রয়েছে অধ্যবসায়। তাইতো কবি বলেছেন— ‘কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ,

উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?

(কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার)

মানুষকে তার প্রয়োজনীয় উপকরণ নিজের যোগ্যতা দিয়ে নিজেকেই সংগ্রহ করতে হয় বলে মানবজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

ছাত্রজীবনে অধ্যবসায় : ছাত্রজীবনে অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা সর্বাধিক। অধ্যবসায়ী ছাত্র মেধাহীন হলেও সাফল্য লাভ করতে পারে। আবার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী শুধু অলসতা আর অমনোযোগিতার জন্য জীবনে সফলতা লাভ করতে পারে না। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের স্লোগান হওয়া প্রয়োজন—

‘ধৈর্য ধর ধৈর্য ধর বাঁধ বাঁধ বুক,

সংসারে সহস্র দুঃখ আসিবে আসুক।’

অধ্যবসায় ও প্রতিভা : অনেকে প্রতিভাকে সফলতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভুল করে। প্রকৃতপক্ষে অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই ব্যক্তি প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায়। পৃথিবীতে যুগে যুগে যেসব মহামনীষী জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁরা প্রতিভাবান অপেক্ষা পরিশ্রমী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। এ সম্পর্কে ভলটেয়ার বলেন, ‘প্রতিভা বলে কিছু নেই, পরিশ্রম ও সাধনা করে যাও, তাহলে প্রতিভাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে।’ তাই মানবজীবনে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন অধ্যবসায়, অসামান্য প্রতিভা নয়। ডাল্টন বলেছেন, ‘লোকে আমাকে প্রতিভাবান বলে; কিন্তু আমি পরিশ্রম ছাড়া আর কিছু জানি না।’ বিজ্ঞানী নিউটনের উক্তি—‘আমার আবিষ্কার প্রতিভা প্রসূত নয়, বহু বছরের অধ্যবসায় ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনার ফল।’ এ থেকেই বোঝা যায় অধ্যবসায় ও পরিশ্রম ছাড়া শুধু প্রতিভার কোনো মূল্য নেই।

 

অধ্যবসায়ের উদাহরণ : পৃথিবীতে যেকোনো বিখ্যাত মনীষীর জীবনচরিত আলোচনা করতে গিয়ে দেখা যায় যে অধ্যবসায়ই ছিল তাঁদের মূল চালিকাশক্তি।

সম্রাট নেপোলিয়ান ছিলেন অধ্যবসায়ী, আর সে জন্যই তিনি বলতে পেরেছিলেন ‘অসম্ভব’ শব্দটি শুধু নির্বোধের অভিধানেই পাওয়া যায়। অধ্যবসায়ের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন—কলম্বাস, স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসসহ আরো অনেকে।

 

উপসংহার : সঠিক কোনো কাজের ব্যাপারে ‘পারতেই হবে’—এমন মনোবল আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত। তাহলেই জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছা যায়।

 

কবির ভাষায়—

‘পারিব না এ কথাটি বলিও না আর

কেন পরিবে না তাহা ভাবো একবার,

পাঁচজনে পারে যাহা,

তুমিও পারিবে তাহা,

পার কি না পার কর যতন আবার

একবার না পারিলে দেখ শতবার।

(কালীপ্রসন্ন ঘোষ)

 

কোনো কাজ একবার না পারলে সাফল্য লাভের জন্য বারবার ধৈর্য ও মনোবলের সঙ্গে তা করার নামই অধ্যবসায়। মূলত অধ্যবসায় হলো সাধনার ব্যাবহারিক নাম।



মন্তব্য