kalerkantho


দ্বাদশ শ্রেণি

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা দ্বিতীয় পত্র

মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সৃজনশীল প্রশ্ন

প্রথম অধ্যায় : ব্যবস্থাপনার ধারণা

 

১। মি. শাহরিয়ার ও আবেশ ‘স্মার্ট ফ্যাশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। উভয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠানটির সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রায়ই মি. শাহরিয়ারকে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়। অপরপক্ষে মি. আবেশ প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানের সঙ্গে জড়িত। প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি অধীন কর্মচারীদের উপদেশ, নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তিনিও সময় সময় অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা নিয়ে থাকেন।

ক) ব্যবস্থাপনাচক্র কী?                      ১

খ) ‘ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন’ ব্যাখ্যা করো।               ২

গ) উদ্দীপকে মি. শাহরিয়ার ‘স্মার্ট ফ্যাশন’ নামের প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার কোন স্তরে কর্মরত? বর্ণনা করো।              ৩

ঘ) ‘সাংগঠনিক স্তর বিবেচনায় মি. আবেশ সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে অধিক মাত্রায় সম্পৃক্ত’— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।             ৪

উত্তর :

ক) ব্যবস্থাপনাচক্র বলতে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার অধীন কাজগুলোর ধারাবাহিক চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে বুঝায়।

খ) ব্যবস্থাপনা হলো উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কতগুলো ধারাবাহিক কার্যসম্পাদন।

ব্যবস্থাপনা এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যার প্রয়োগ নিঃসন্দেহে ব্যাপকভাবে সর্বজনীন। কারণ সমাজের সর্বক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম, নীতি ও পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ছাড়া উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব নয়। সমাজের এ চিহ্নিত ক্ষেত্রগুলো একক ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই আমরা দেখি, একজন ছোট ব্যবসায়ী যেমন পরিকল্পনা করে, তেমনি জেনারেল মোটরসের মতো প্রতিষ্ঠানও পরিকল্পনা করে। সুতরাং সর্বত্রই ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার কাজগুলো আবশ্যক বিবেচিত হয়। তাই বলা হয় ব্যবস্থাপনা সর্বজনীন।

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানে মি. শাহরিয়ার ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তরে কর্মরত।

সংগঠনকাঠামোর যে স্তরে লক্ষ্য নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি প্রণয়ন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করা হয় তাকে উচ্চস্তরীয় ব্যবস্থাপনা বলে। আর এ স্তরে অবস্থানরত ব্যবস্থাপকদের উচ্চস্তরীয় ব্যবস্থাপক বলে।

উদ্দীপকে দেখা যায় মি. শাহরিয়ারকে প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়, যা উচ্চস্তরীয় ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত। এ স্তরে কর্মরত ব্যক্তিদের মানবিক শ্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণিত পরিস্থিতিতে মি. শাহরিয়ার ব্যবস্থাপনার উচ্চস্তরে কর্মরত একজন ব্যবস্থাপক।

ঘ) উদ্দীপকে মি. আবেশ সংগঠনের নিম্নস্তরে কর্মরত ব্যবস্থাপক।

সংগঠনকাঠামোর সর্বনিম্নস্তরকে নিম্নস্তরীয় ব্যবস্থাপনা বলে। এ স্তরে ব্যবস্থাপকরা সরাসরি মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি উচ্চস্তরীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে শ্রমিক-কর্মীদের কার্যাবলি তদারকি করে থাকে। মূলত নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপকরা শ্রমিক-কর্মীদের কাছাকাছি থেকে তাদের তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্বদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকে।

উদ্দীপকের তথ্যানুযায়ী মি. আবেশ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অধীন কর্মচারীদের উপদেশ ও নির্দেশ দিয়ে থাকেন। তাই তিনি সংগঠনের নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপক। নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নিজস্ব সহায়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে, যেখানে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ও জড়িত থাকে। তবে তাদের মূল কাজ হচ্ছে উচ্চ বা মধ্যম স্তরের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন। উদ্দীপকে মি. আবেশের মূল কাজ হচ্ছে কর্মচারীদের উপদেশ ও নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। যদিও তিনি মাঝেমধ্যে অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু মি. আবেশ একজন নিম্নস্তরের ব্যবস্থাপক, তাই তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে অধিক মাত্রায় সম্পৃক্ত।



মন্তব্য