kalerkantho


সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ, দুজনের প্রাণহানি

মনিরুল ইসলাম মনু, বান্দরবান   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সীমান্তে ফের মাইন বিস্ফোরণ, দুজনের প্রাণহানি

প্রতীকী ছবি

বান্দরবান সীমান্তে সোমবার রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সাড়ে ১৬ ঘণ্টায় মাইন বিস্ফোরণে দুজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন  রোহিঙ্গা নাগরিক, অন্যজন বাংলাদেশি।

স্থানীয় সূত্র মতে, সোমবার রাত ১১টার দিকে সীমান্তের ৪৬ নম্বর পিলারসংলগ্ন আসারতলীর ওপারে মাইন বিস্ফোরণে দুই রোহিঙ্গা নাগরিক আহত হয়। এর মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার পথে মোকতার হোসেন (৪০) মারা যান। সব শেষ ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আন্তর্জাতিক পিলার নম্বর ৪৪-এর কাছাকাছি ছনখোলা এলাকায়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো পয়েন্টের তারকাঁটার বেড়া লাগোয়া এলাকায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি নাগরিক হাশিম উল্লাহ (৩৮) নিহত হন। আহত রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল কাদেরের (৪০) অবস্থাও আশঙ্কাজনক। একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন যুদ্ধরত এলাকায় ‘বেবি ট্র্যাপ’ হিসেবে লোভনীয় বস্তুর সঙ্গে মাইন সংযুক্ত করে হতাহতের ঘটনা ঘটানো হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরসংলগ্ন সীমান্তেও মোবাইল ফোন, তরল পানীয়ের ক্যান, নকল সোনার খণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সঙ্গে স্থলমাইন সংযুক্ত করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনার তথ্য তারা পেয়েছে।

এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, এত দিন পর্যন্ত দুর্গম এলাকা ঘুনধুম-তমব্রু পয়েন্টে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও সোমবার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের কাছাকাছি চাকঢালা-আসারতলী পয়েন্টে কয়েক দফায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তাসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, এটি সীমান্তসংলগ্ন এলাকাবাসীর কাছে চরম হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। জিরো পয়েন্টে যাতায়াতের অধিকারটিও পড়েছে হুমকির মুখে। তিনি বলেন, উপর্যুপরি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন বিস্ফোরণে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ছনখোলা সীমান্তে রোহিঙ্গা নাগরিকসহ দুই ব্যক্তি মারাত্মক জখম হয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিক এম এ হামিদ জানান, সীমান্তের  ৪৪ নম্বর পিলারসংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তারকাঁটার বেড়ার কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আবদুল কাদের রোহিঙ্গা।

সীমান্তের ওপারে জিরো লাইনের সমান্তরালে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্থলমাইন পুঁতে রাখায় বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাসংলগ্ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।   সীমান্তঘেঁষা চেরার মাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, সীমান্তের জিরো লাইনের প্রায় ১০০ গজের মধ্যে একের পর এক মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ভীত হয়ে বিদ্যালয়ে ছাত্র উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে বিজিবি ও পুলিশ জওয়ানদের। নাইক্ষ্যংছড়িতে দায়িত্বরত বিজিবির ৩১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, মাইন বিস্ফোরণে প্রাণহানির খবর তাঁরা শুনেছেন। এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটার কারণে তাঁদের পক্ষে কিছুই করণীয় নেই। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবেই জানানো হচ্ছে।


মন্তব্য