kalerkantho


৪২ দেশের কূটনীতিকসহ ৬৩ প্রতিনিধি উখিয়ায়

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার আশ্বাস

তোফায়েল আহমদ ও নূপুর দেব, উখিয়া থেকে   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখার আশ্বাস

উখিয়া সীমান্তে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে বিদেশি কূটনীতিকরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভয়াবহ নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে গতকাল বুধবার চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪২ দেশ ও মিশনের ৬৩ জন কূটনীতিক কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাঁদের সঙ্গে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আরো প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তাও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সরাসরি দেখেন।

পরে কয়েকজন কূটনীতিক উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংসতা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কয়েক দিনে বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের মুখে নিপীড়নের কথা শোনার পর কূটনীতিকদের দেখাচ্ছিল বিচলিত। তাঁরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসাও করেছেন। রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখার পর কূটনীতিকরা বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে তাঁরা ভূমিকা রাখবেন। নিজ নিজ দেশকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি আরো বিস্তারিত জানানোর আশাও তাঁরা ব্যক্ত করেছেন।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় একটি বোয়িং বিমানযোগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে ৬৩ জনের বিদেশি প্রতিনিধিদলটি ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে সড়কপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে যায়

দুুপুর ১২টার দিকে বিদেশি কূটনীতিকরা প্রথমে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে যান। তাঁরা নিবন্ধিত অনুপ্রবেশকারীদের পুরনো এই ক্যাম্পটি ঘুরে দেখেন এবং কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন।

কুতুপালংয়ের পর তাঁরা সদ্য নির্মিত বালুখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন। ওই সময় কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি আবার কখনো হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল।

কুতুপালং ও বালুখালী আশ্রয়শিবির পরিদর্শনের পর বিদেশি কূটনীতিকরা ঘুনধুম সীমান্ত এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে এপার-ওপারের বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময়ও মিয়ানমারের বিভিন্ন গ্রাম জ্বলছিল, যা তারা স্বচক্ষে দেখেন। কিভাবে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়ে এ দেশে আসছে এবং নির্যাতনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন তাঁরা দেখতে পান। সড়কপথে কক্সবাজার থেকে উখিয়া ও সীমান্ত এলাকা ঘুনধুম পরিদর্শনকালে তাঁরা সড়ক ও আশপাশের এলাকায় অবস্থানকারী হাজার হাজার রোহিঙ্গার মানবেতরভাবে অবস্থানের দৃশ্য দেখেন।

পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে চীন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, এই মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাজ্য। কূটনীতিকদের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপিস্থিত ছিলেন।

ক্যাম্প পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের মধ্যে বিবাদ চলছে। এটা সেই দেশের সমস্যা। মিয়ানমারের সমস্যা এখন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ায় সংকটের একমাত্র সমাধান। এ জন্য বিদেশি কূটনীতিকরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরোয়ার কমল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হক, বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চীেধুরী প্রমুখ।   

পরিদর্শন শেষে দুপুরে বিদেশি প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জীবন অনিশ্চিত ও অমানবিক। বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ফিরিয়ে নিতে নিজ নিজ দেশে আলোচনা করা হবে। এ সময় তাঁরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া এবং রোহিঙ্গাদের জন্য মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

ঘুনধুম সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের পর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তাঁরা কক্সবাজার জেলা শহরের উদ্দেশে উখিয়া ত্যাগ করেন। বিকেলে তাঁরা আবার কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। কূটনীতিকদের দেখতে বিভিন্ন এলাকায় উত্সুক জনতার ভিড় ছিল। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর কারণে ওই সড়কে যাতায়াতকারীরা কয়েক ঘণ্টা দুর্ভোগে পড়ে।

গত মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকনাফে গিয়ে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখেন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন।

 


মন্তব্য