kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

জিয়া পরিবারের পাচার করা সম্পদের তদন্ত চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জিয়া পরিবারের পাচার করা সম্পদের তদন্ত চলছে

ফাইল ছবি

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুবাইসহ ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের এক হাজার ২০০ কোটি টাকা পাচারসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

জিআইএনের রিপোর্টের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাচার করা অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইমাম। তিনি জিআইএনের রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, ‘শুধু দুবাই নয়, অন্ততপক্ষে ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে, যার প্রাক্কলিত মূল্য ১২ শ কোটি টাকা। সৌদি আরবে আহমদ আল আসাদের নামে আল আরাবা শপিং মল রয়েছে। কিন্তু এটির মালিকানা হলো বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ইকরার মালিকানাও খালেদা ও তাঁর ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের নামে। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার ভাতিজা তুহিনের নামে কানাডায় তিনটি বাড়ি রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ড. খন্দকার মোশাররফ সিঙ্গাপুরের হোটেল মেরেনডির ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনের স্ট্যানফোর্ড ও অলগেটিতে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট আছে। বিএনপি আমলের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে আছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তাঁর সন্তানদের নামে কিনেছেন দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামে সিঙ্গাপুরে রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। এসব তথ্য জিআইএন প্রতিবেদন থেকে তুলে ধরলাম। ’

জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে তা আছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সব তথ্য যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’ তিনি বলেন, ‘এ কথা তো সবাই জানে বিএনপি ক্ষমতায় এসে একদিকে মানুষ হত্যা করেছে, আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, অপর দিকে ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করা, অর্থ পাচার করা—এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে। এ জন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা ফেরত এনেছি। ’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে, নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব, কোথায় কিভাবে রয়েছে নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদক্ষেপ নেব। ইতিমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি শান্তিময় দেশ গঠনে সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

সংসদ নেতা আরো বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার বিগত মেয়াদ থেকে রূপকল্প-২০২১, দিনবদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকার সুখী-সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। ফলে ইতিমধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। ’ তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের জোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তত্পরতায় ব্যবহূত হচ্ছে কি না—এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। এ ছাড়া বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তত্পরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, চলাচল ও স্থানান্তর, একই সঙ্গে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি চলছে।

 


মন্তব্য