kalerkantho


রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব

গাউস রহমান পিয়াস   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গা ফেরত নেবে মিয়ানমার

ফাইল ছবি

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। গত শুক্রবার রাজধানী নেপিডোয় দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

তবে মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে গতকাল শনিবার দেওয়া খবরে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে ১৯৯৩ সালে সম্পাদিত চুক্তি অনুসরণ করা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকেরও প্রস্তাব দিয়েছে মিয়ানমার। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের পার্শ্বকর্মসূচি হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং টুন এই প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ে সু চির দপ্তরের ইউনিয়ন কাউন্সেলরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

গতকাল মিয়ানমার সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন এবং এই লক্ষ্যে একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে যারা পালিয়ে গেছে তাদের কোন কোন স্থান দিয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে সেগুলো নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে মুসলমান ছাড়াও অন্য জাতিগোষ্ঠী যেমন—রাখাইন, ম্রো, দাইংনেট ও ম্রামাগাইয়ের পাশাপাশি হিন্দু সংখ্যালঘুদের পুনর্বাসন (রিহেবিলিটেশন) ও পুনর্নিষ্পত্তি (রিসেটলমেন্ট) কর্মসূচির ওপর জোর দেন সু চি। ”

চ্যানেল নিউজ এশিয়া ও মিয়ানমার সরকারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর পাওয়া যায়। খবরে বলা হয়, শুক্রবারে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের স্বার্থে মিয়ানমার সরকার একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গড়বে।

সরকার বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের আগামী সপ্তাহে রাখাইন রাজ্যেও নিয়ে যাবে। শুক্রবারের সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ আগস্ট ‘হামলাকারী সন্ত্রাসীদের’ একটি তালিকাও মিয়ানমার বাংলাদেশ সরকার, ইন্টারপোল ও জাতিসংঘের হাতে তুলে দেবে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও তারা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ফের আমন্ত্রণ জানাবে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরের কর্মসূচি এর আগে স্থগিত করে দিয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, স্টেট কাউন্সেলর তাত্ক্ষণিক নির্দেশ দেন যে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে সেগুলো অবশ্যই খুব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর পুনর্বাসন ও তাদের অবকাঠামো উন্নয়নকাজ সম্পাদনের সুবিধার্থে জাতিসংঘ-হাবিতাতের পরামর্শ গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুনর্গঠন কাজের মধ্যে রয়েছে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ, বৈদ্যুতিক গ্রিড স্থাপন, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্কুল, হাসপাতাল ও পুলিশ চৌকি প্রতিষ্ঠা।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে আরো আছে তামান্থার গ্রামে আরসার হামলার শিকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯৩ জন সদস্যের অনুসন্ধান কাজটি গতিশীল করা। বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের ছয়জন নারী ও তিন শিশুকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে অনুরোধ করা হয়েছে; একই অনুরোধ কূটনৈতিক পন্থায়ও করা হবে।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতার শুরু হওয়ার পর ব্যাপকহারে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া শুরু হয়। গত এক মাসেরও কম সময়ে সোয়া চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে জাতিসংঘ তথ্য দিয়েছে। মিয়ানমার সরকারের দাবি, ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসীগোষ্ঠী আরসা (রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) সেনাঘাঁটি, পুলিশ চৌকিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে হামলা চালালে সেনাবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়, যাকে তারা ‘শুদ্ধি অভিযান’ বলে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা নাকচ করে দিচ্ছে।

বিবৃতি মতে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য লে. জেনারেল কিয়াও সয়ে, লে. জেনারেল ইয়ে অং, ইউ কিয়াও টিন্ট সয়ে, ড. পে মিন্ট, থোরা উ অং কো, ড. অং থু, ইউ থান্ট সিন মং, ইউ থেই সয়ে, ড. মিও থেইন গাই, ড. মিন্ট হতওয়ে, ইউ উইন খাইন, ড. উইন মিয়াত আয়ে, রাখাইনের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নেই পুসহ কয়েকজন উপমন্ত্রী, মিয়ানমারের পুলিশ বাহিনীর প্রধান এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটির কর্মকর্তারা।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, মিয়ানমারের সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের প্রস্তাবের পর মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের ইউনিয়ন কাউন্সেলরকে বাংলাদেশ সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে সু চির দেওয়া বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া সু চি সরকার বাংলাদেশকে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো প্রস্তাব দেয়নি। ’

১৯৯৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া হবে বলে সু চির বক্তব্য সম্পর্কে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ওই রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার চুক্তিটি মিয়ানমার বাস্তবায়ন করেনি। এখন নতুন করে বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে, তাদের মধ্যে অনেক শিশু এবং অনেক বয়স্ক ব্যক্তিরও নাম-পরিচয় বা ঠিকানা নেই। এসব সমস্যা সমাধানে নতুন করে আলোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থারও সহায়তা নেওয়া হবে। ’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিকট অতীতে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মিয়ানমারকে বারবার আলোচনার টেবিলে ডাকলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

১৯৭৪ সালে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বিদেশি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এরপর জান্তা সরকারের দমন-পীড়নে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন ধাপে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিলেও ২০০৫ সাল থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। ১৯৮২ সালে মিয়ানমার যে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করে, তাতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, নির্যাতন-হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, যা এ বছর এসে নজিরবিহীন ঘটনায় রূপ নেয়। গত এক মাসেরও কম সময়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকেই অবস্থান করছিল পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা।

এখন আন্তর্জাতিক তীব্র চাপের মুখে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে নমনীয় ভাব দেখালেও এর ওপর আস্থা রাখা কঠিন। ১৯৯২ মালের ২৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার তার দেশের বাসিন্দারের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ প্রতিহত করবে এবং মিয়ানমারের পরিচয়পত্র যাদের কাছে রয়েছে এমন সবাইকে তারা ফিরিয়ে নেবে। মিয়ানমারের অন্যান্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া কাগজপত্র দিয়েও পরিচিতি প্রমাণ করা যাবে। একইভাবে মিয়ানমারে বসবাস করার অন্য কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারলেও তাকে মেনে নেওয়া হবে। তবে যৌথ বিবৃতিটি অকার্যকর প্রমাণিত হয় ইউএনএইচসিআরের ভূমিকা নিয়ে দুই দেশের ঐকমত্য না থাকার কারণে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরকে সহযোগিতা করতে রাজি হলেও মিয়ানমার বলেছিল, কেবল দুই দেশের কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কাজটি করবে। পরে প্রয়োজন পড়লে তখনই ইউএনএইচসিআরের সহায়তা নেওয়া হবে। ১৯৯২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর শুধু দুই দেশের মাধ্যমে কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার ফেরতও নেয়। ইউএনএইচসিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের ভূমিকা ছাড়াই ১৯৯২ সালে যেসংখ্যক রোহিঙ্গা ফেরত যায় তার ৮৪ শতাংশই (চার হাজার ৮১৪ জন) দুই দেশ একক ভূমিকায় নিয়েছে।

পরের বছর ১৯৯৩ সালের ১২ মে বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যে এসক্রান্ত সমঝোতা হয়। ফলে জাতিসংঘের সংস্থাটি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাত্কারের অধিকার পায়। সমঝোতায় বাংলাদেশ সম্মত হয়, ‘কোনো রোহিঙ্গাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফেরত পাঠানো যাবে না। ’ ওই বছরেরই ৯ নভেম্বর ইউএনএইচসিআর মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা চুক্তি করে এই মর্মে যে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চাইলে দেশটি সহযোগিতা করবে। চুক্তিতে মিয়ানমার আশ্বাস দেয়, ‘ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের তাদের মৌলিক আবাসস্থলে যেতে দেওয়া হবে। ’ দেশটি আরো আশ্বাস দেয়, ‘প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এবং ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নিয়ে ফিরে যাওয়া সবাইকেই যথাযথ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ’ মিয়ানমার আরো আশ্বাস দেয়, ‘ফিরে যাওয়া সবাই রাখাইনের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের মতো স্বাধানভাবে চলাফেরার অধিকার পাবে। দেশের বাসিন্দা হিসেবে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলেও মিয়ানমার সম্মত হয়। এই হিসেবে ইউএনএইচসিআর ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মিয়ানমারকে আনুমানিক এক লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত গ্রহণের একটি পরিকল্পনাপত্র দেয়। এতে বলা হয়, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার শরণার্থী (দৈনিক দেড় হাজার) ফেরত যাবে। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার নানা কৌশলে কার্যক্রম থেকে সরে যায়।

বর্তমানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নেই, তাদের জাতিসত্তারও স্বীকৃতি নেই। সব অধিকার কেড়ে নিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘হোয়াইট কার্ড’ নামের পরিচয়পত্র। ২০১৫ সালে এই পরিচয়পত্রও জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, সব রোহিঙ্গাকে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ডের জন্য আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। শেষ সরকারি স্বীকৃতিও হারানোর ভয়ে রোহিঙ্গারা এমনই ভীত হয়ে পড়ে, তাদের প্রায় সবাই সাদা কার্ড লুকিয়ে ফেলতে শুরু করে। এই মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকারও নেই। তারা ভোট দিতে পারবে—২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার এই নির্দেশনা জারি করলে সহিংস প্রতিবাদে ফেটে পড়ে রাখাইনের বৌদ্ধরা। তাদের শান্ত করার কৌশলের দিকে না গিয়ে সিদ্ধান্ত থেকেই পিছু হটে সরকার এবং ওই বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের প্রার্থী হওয়া বা ভোট দেওয়া কোনোটারই অধিকার ছিল না।

গত ৪ মে মিয়ানমারের অভিবাসন ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রী উ থেইন সয়ে জানান, তাঁদের হিসাবে রাখাইনের চার লাখের মতো রোহিঙ্গার হাতে সাদা কার্ড ছিল; কিন্তু মাত্র সাত হাজার ৫৪৮ জন এনভি (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন) কার্ডের জন্য আবেদন করেছে।

কুতুপালং শিবিরে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা মো. ইউনুস আরমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, “সরকার প্রথম দিকে আবেদনপত্রে ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের ঘর রেখেছিল। পরে আবেদনপত্রে পরিবর্তন এনে ‘রোহিঙ্গা’ উল্লেখ করার ঘরটি বাদ দিয়ে দেয়। এ কারণেই রোহিঙ্গারা ভয় পেয়ে আবেদন করা বন্ধ করে দেয়। ”

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার বিভ্রান্তিমূলক আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করায় লিফলেট ছড়ানোরও কৌশল নেয়, যাতে বাংলা ভাষাও ব্যবহার করা হয়। কালের কণ্ঠ’র হাতে আসা এমন দুটি লিফলেটেরই অনুলিপিতে দেখা যায়, বার্মিজ ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। লিফলেটে স্পষ্ট করে বলা হয়, এনভি কার্ড হচ্ছে নাগরিকত্ব প্রমাণের যাচাই-বাছাইয়ের যোগ্য হওয়ার ‘প্রথম পদক্ষেপ’। আবেদনপত্র পূরণ করলে বাংলাদেশে যাতায়াত এমন লোভও দেখানো হয় লিফলেটে। রোহিঙ্গারা বলছে, যেখানে তাদের জাতিসত্তার নামই জরিপ শেষে বাদ দেওয়া হয়েছে, কেড়ে নেওয়া হয়েছে নাগরিকত্ব, এনভি কার্ড চোখে ধুলো দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

এদিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক আভাস যখন দিচ্ছে তখনো জ্বলছিল আরাকান। গতকাল অ্যামনেস্টি ইন্টারনাশনাল জানায়, নতুন একাধিক ভিডিও ও স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া চিত্রে দেখা যায়, রাখাইনের বিভিন্ন স্থান এখনো জ্বলছে। গতকালই হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে শুধু নয়, রোহিঙ্গারা বসবাস করত—এমন এলাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইন পুঁতে রাখছে।


মন্তব্য