kalerkantho


উল্টাপাল্টা খেয়েই মোটা হচ্ছে শিশু-কিশোররা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



উল্টাপাল্টা খেয়েই মোটা হচ্ছে শিশু-কিশোররা

বিশ্বজুড়ে শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা বা ওবিসিটির হার গত চার দশকে ১০ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বে ১২ কোটি ৪০ লাখ ছেলে-মেয়ে অতিরিক্ত স্থূলকায় অর্থাৎ অতিরিক্ত মোটা।

বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই স্থূলতার সমস্যা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটের একটি গবেষণা নিবন্ধে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওবিসিটি ডে’ বা ‘বিশ্ব শারীরিক স্থূলতা দিবস’; এই দিবস সামনে রেখে মঙ্গলবার ল্যানসেট নিবন্ধটি প্রকাশ করে। ২০০টির বেশি দেশের স্থূলতা প্রবণতার ওপর যৌথভাবে এ গবেষণা কার্যক্রম চালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজ।

অপুষ্টির কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের শিশুর সংখ্যা বিশ্বের যেসব দেশে বেশি, দীর্ঘদিন ধরেই সেসব দেশের তালিকায় বাংলাদেশ থাকে প্রথম দিকে। গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশকে হয়তো এখন অপুষ্টি ও স্থূলতার ‘দ্বৈত বোঝা’ একসঙ্গে বহন করতে হবে।

নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোয় স্থূলতা বাড়ছে, বিশেষত সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় তা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে বলে দেখতে পেয়েছেন গবেষকরা। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে স্থূলতা বাড়ার প্রবণতা কিছুটা থিতিয়ে এসেছে।

পাঁচ বছর থেকে ১৯ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের তথ্য নিয়ে পরিচালিত এ গবেষণা নিবন্ধে ১৯৭৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত শিশু, বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) তুলনা করে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতার চিত্র তুলে আনা হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির উচ্চতার সঙ্গে ওজনের তুলনা করে হিসাব করা হয় তার বিএমআই, যা দিয়ে বোঝা যায় তার ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রয়েছে কি না। এতে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন স্থূলতায় আক্রান্ত।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২০১৬ সালে ছেলেদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল ৩ শতাংশ; যা ১৯৭৫ সালে ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। আর মেয়েদের মধ্যে স্থূলতার হার চার দশক আগে শূন্য থেকে বেড়ে হয়েছে ২.৩ শতাংশ। স্থূলতা বাড়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস, খাবারের বিপণন এবং সরকারের খাদ্যনীতিকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্থূল শিশুরা পরিণত বয়সে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্তন ও কোলন ক্যান্সার।

নিবন্ধের প্রধান লেখক ইমপেরিয়াল স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক মাজিদ ইজ্জাতি বলেন, ‘বাসাবাড়ি ও স্কুলে স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার তৈরির পথ বের করতে হবে আমাদের; বিশেষ করে গরিব পরিবারগুলোর জন্য। অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শিশুদের রক্ষা করতে নীতিমালা প্রণয়ন ও কর আরোপও জরুরি। ’

গবেষকরা মনে করছেন, সস্তা ও স্থূল করে দেয় এমন খাবার সহজলভ্য হয়ে ওঠা এবং এসব খাবারের ব্যাপক প্রচারণা এর জন্য দায়ী।

নিবন্ধে বলা হয়, পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলসহ মধ্য আয়ের দেশগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজনের শিশু-কিশোরের সংখ্যা থেকে স্থূল শিশু-কিশোরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চীন ও ভারতে স্থূলকায় শিশু-কিশোরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে বিশ্বের দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে কম ওজনের শিশুর তুলনায় স্থূল শিশুর সংখ্যা ২০২২ সালের মধ্যে আরো বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও অপুষ্টির কারণে কম ওজনের শীর্ণকায় শিশুর সমস্যাও থেকে যাবে।

ল্যানসেট সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বে যে হারে স্থূলকায় শিশু-কিশোরের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ২০২৫ সাল নাগাদ স্থূলতাজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় বছরপ্রতি ৯২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) শৈশবে মুটিয়ে যাওয়া ঠেকাতে একটি পরিকল্পনার কথা বলছে, যেখানে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেশগুলোর প্রতি স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ডাব্লিউএইচওর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচি সমন্বয়ক ডা. ফিওনা বুল বলেন, ‘কম পুষ্টিকর ও বেশি ক্যালরিসমৃদ্ধ, সস্তা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। শিশুদের বসে থেকে কম্পিউটার, টিভি ও স্মার্টফোনে সময় কাটানো কমিয়ে আনতে হবে। এর বদলে খেলাধুলাসহ এমন বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে শরীরে সক্রিয়তার সুযোগ তৈরি হয়। ’


মন্তব্য