kalerkantho


বড় হারে শুরু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



বড় হারে শুরু বাংলাদেশের এশিয়া কাপ

৩২ বছর আগের এশিয়া কাপে ঢাকায় এই পাকিস্তানের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করে এক গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি যেন এত দিন উসকে দিয়েছিল বাঙালির আবেগী মনকে।

বাড়বাড়ন্ত আবেগ পাকিস্তানকে এমন জায়গায় নামিয়ে এনেছে, রাসেল মাহমুদরা যেন একটু প্রতিজ্ঞা করে নামলেই আপসেটের জন্ম হয়ে যাবে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম। কিন্তু সে যে হওয়ার নয়। বড় দলের খারাপ দিনও আসেনি আর দুর্বলের সঙ্গে ভাগ্য ছিল কেবল প্রথম কোয়ার্টার পর্যন্ত। ভাগ্যের দেবতাও তো অন্ধ নয়, অমন একতরফা ম্যাচে বাংলাদেশকে বর দেয় কী করে! বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ও সাবেক হকি তারকা রফিকুল ইসলাম কামালের মূল্যায়নই ঠিক, ‘ম্যাচে আমাদের ভুল ছিল, লড়াই আশা করেছিলাম আরেকটু। তবে টেকনিক্যালিও আমরা অনেক পেছনে। ওদের স্কিল এত ভালো যে আমাদের ডিফেন্সে গিয়ে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিয়েছে। আমরা তো স্টিকে বলই রাখতে পারি না, একটি পোনল্টি কর্নারের সুযোগও পাইনি। ’

প্রথম কোয়ার্টারে দুর্দান্ত লড়েছে বাংলাদেশ। লড়াই গোলহীন থাকার।

মানের ব্যবধানে আগুয়ান পাকিস্তানের চাপে স্বাগতিকরা শুরু থেকেই পিছিয়ে গিয়ে খেলাটাকে নিয়ে গেছে নিজেদের অর্ধে। দাপট পাকিস্তানের হলেও প্রতিরোধে সফল রাসেলের দল। দুই মিনিটে মালয়েশিয়ান আম্পায়ারের বাঁশিতে পেনাল্টি কর্নারের সুর বেজে উঠলে স্বাগতিক দর্শকের মন বিষিয়ে যায়। আবার ভালোও হয়ে যায় বাংলাদেশের রিভিউতে। বাংলাদেশের কারো পায়ে লাগেনি বল—ছবিটা জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখেই উল্লসিত। বিপদমুক্তির সে কী আনন্দ। এভাবে লড়ে প্রথম ১৫ মিনিট গোল না খাওয়ার গর্ব নিয়ে লাল-সবুজের দল বিরতিতে যায়। আর সমর্থকরাও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, এভাবে আরো তিন কোয়ার্টার কাটিয়ে দিলেই হয়ে যায়!

খেলাটার নাম হকি, পাঁচ মিনিটেই ৩/৪ গোলের মিছিল হতে পারে। তাই ৪৫ মিনিট ধরে নিজেদের অর্ধে লড়াই করে গোল ঠেকিয়ে যাওয়া বড় কঠিন। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরু হতে না হতেই গোলমুখ খুলে নিস্তব্ধ করে দেয় গ্যালারি। পেনাল্টি কর্নার থেকে আবু মাহমুদের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এই পেনাল্টি কর্নারই তাদের বড় অস্ত্র। কম্বিনেশনের নানা বৈচিত্র্যে মারা পেনাল্টি কর্নারে তারা চার গোল করেছে। এর মধ্যে তিনটিই করেছেন সোহেল আব্বাসের ওই উত্তরসূরি স্পেশালিস্ট আবু মাহমুদ এবং আরেকটি করেছেন কাদির মোহাম্মদ আরসলান। ৩৩ মিনিটে খোরশেদের ফাউলে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করেছেন শাকিল। ৪৭ মিনিটে তাঁর ফিল্ডগোলটি ছিল চমৎকার। শেষ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় ফিল্ডগোল করেন আরসলান।

পাকিস্তান খেলাটা এমন একতরফা বানিয়ে ফেলেছিল, বাংলাদেশ নিজেদের ডিফেন্স ছেড়ে ওপরে ওঠার ফুরসৎ তেমন পায়নি। ওখানে ভুলভাল খেলেছে আর নিজেদের পায়ে লাগিয়ে পেনাল্টি কর্নার দিয়েছে ওদের। কেবল বলার মতো দুটি দৌড় হয়েছিল প্রতিপক্ষের ডিফেন্সমুখো। ২৩ মিনিটে রাসেল মাহমুদের ক্রসে স্টিক ছোঁয়াতে পারেননি মিলন হোসেন। মিনিট চারেক বাদে পুষ্কর খীসা মিমোর কাউন্টারে আরেকবার উচ্চকিত হয়েছিল মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম। এরপর তৃতীয় কোয়ার্টার থেকে পাকিস্তানিদের গোল মিছিলে আপসেটের ফানুস হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। দলের ম্যানেজার ও সাবেক তারকা রফিকুল ইসলাম কামালের দুঃখ, “ওরা তো গোল করেনি। আমরা উপহার দিয়েছি তাদের। ঊষায় খেলে যাওয়া তাদের সহকারী কোচ শাফকাতই বলেছে, তোমরাই গোলের সুযোগ করে দিয়েছ। ” তার পরও নিজেদের মাঠে গোল একটু বেশিই হলো। গত বছর এসএ গেমসে এই পাকিস্তানের কাছে হেরেছিল ৬-০ গোলে। এত প্রস্তুতির পর ঢাকায় গোলসংখ্যা একটি বেড়ে গেল। বাড়বে না কেন। এই দলের খেলোয়াড় হোটেলে জার্সি রেখে ম্যাচ খেলতে আসে! মিডফিল্ডার রোমান সরকারের এই ভুলে মাথা হেঁট হয়ে গেছে ম্যানেজারের, ‘এটা সত্যি দুঃখজনক যে একজন খেলোয়াড় জার্সি নিয়ে আসেনি। পরে জার্সি এনে তাকে মাঠে নামিয়েছি শেষ দিকে। ম্যানেজার হয়ে প্রত্যেকের জার্সি চেক করে দেখা তো সম্ভব নয়। এটা কিভাবে হয় আমি জানি না। তার জন্যও একটা শিক্ষা। ’ এমন কাণ্ডের পর তো প্রশ্ন জাগতেই পারে, তারা কি সত্যিই সিরিয়াস এশিয়া কাপে? 


মন্তব্য