kalerkantho


বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক

ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

১১৯ দেশের মধ্যে ৮৮তম এবার দুই ধাপ এগিয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এবার গত বছরের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এবার ১১৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৮তম; যা গত বছর ছিল ৯০তম।

অবশ্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে আছে ভারত (১০০তম), পাকিস্তান (১০৬) ও আফগানিস্তান (১০৭)।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) ‘বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক’ বা ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-২০১৭’তে এই তথ্য জানিয়েছে।

অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা ও শিশুমৃত্যুর হার—এই পরিস্থিতি বিচার করে ১০০ পয়েন্টের এই সূচক তৈরি করেছে আইএফপিআরআই। যে দেশের স্কোর যত কম, সে দেশের পরিস্থিতি তত ভালো। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩২.৪, গত বছর এই স্কোর ছিল ২৭.১ এবং ২০১৭ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২৬.৫-এ।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি শিশুর প্রতিদিনের গ্রহণ করা খাদ্যের পুষ্টিমান গড়ে এক হাজার ৮০০ কিলোক্যালরির কম হলে বিষয়টিকে ক্ষুধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আইএফপিআরআইয়ের এই সূচকে দেখা যায়, দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৯টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তান, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান, ভারত ও উত্তর কোরিয়া। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে চীন ২৯তম, নেপাল ৭২তম, মিয়ানমার ৭৭তম ও শ্রীলঙ্কা ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে।

সূচকে সবচেয়ে নিচের সারিতে রয়েছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১১৯তম)।

এরপর যথাক্রমে চাদ (১১৮তম), সিয়েরা লিওন (১১৭তম), মাদাগাস্কার (১১৬তম) ও জাম্বিয়া (১১৫তম)। এ ছাড়া আফ্রিকার দক্ষিণ সুদান, নাইজার, সোমালিয়া ও ইয়েমেনের অবস্থানও তলানিতে। নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে আইএফপিআরআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডমিনিক ম্যাকসোর্লে বলেন, যুদ্ধবিগ্রহ ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত অভিঘাতের কারণে দেশগুলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এসব দেশের অর্ধেক মানুষই খাদ্যঘাটতিতে রয়েছে।

গত মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এবারই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশই খাদ্যসংকটে রয়েছে।

তবে সূচকের তথ্য মতে, সেনেগাল, আজারবাইজান, পেরু, পানামা, ব্রাজিল ও চীনের এ ক্ষেত্রে উন্নতি সবচেয়ে বেশি। এই দেশগুলোসহ মোট ১৪টি দেশ সূচকে এগিয়েছে।


মন্তব্য