kalerkantho


‘সমশক্তির’ আ. লীগ বিএনপির লড়াই

আহমেদ উল হক রানা, পাবনা   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘সমশক্তির’ আ. লীগ বিএনপির লড়াই

দশটি সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমান চারবার জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি জিতেছে দুইবার।

এ পরিসংখ্যান বলে, শক্তির ভারসাম্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি সমানে সমান। আবার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ক্ষেত্রেও দুটি দলের মধ্যে মিল আছে। দুই দলেই কোন্দল প্রকট। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি দুটি সংসদ নির্বাচনে জিতলেও এখানে দলটির তেমন কোনো ভিত্তি নেই। একই অবস্থা জামায়াত ও অন্য দলগুলোর।

স্বাভাবিকভাবেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য আসনটি ধরে রাখা। আর বিএনপি চায় আসনটি পুনরুদ্ধার। তাই লড়াইটা দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছে রাজনীতি সচেতন মানুষ।

জাতীয় সংসদের ৬৯ নম্বর এ নির্বাচনী এলাকায় ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে নেমে পড়েছেন।

ব্যাপক গণসংযোগ করার পাশাপাশি পোস্টার ও বিলবোর্ড টানিয়ে তাঁদের নির্বাচন করার আগ্রহের বিষয়টি জানান দিয়েছেন। পাবনা-২ আসনটি সুজানগর উপজেলার ১০টি এবং বেড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ভোটারের হিসাবে পাল্লা ভারী সুজানগরের। এ কারণে প্রার্থীদের বেশি মনোযোগ থাকে এ উপজেলার ওপরই। যদিও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বেড়া এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান আরজু। জেলার কৃষিভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সুজানগরের সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন. প্রার্থী নির্বাচনের ওপরই এবার এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জয়-পরাজয় নির্ভর করবে।

আওয়ামী লীগ : বর্তমানে এ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেন খন্দকার আজিজুল হক আরজু। তিনি ছাড়াও দলীয় মনোনয়নপ্রার্থী আছেন আরো অন্তত পাঁচজন। তাঁরা হলেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবির, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মির্জা জলিল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) খন্দকার জাহাঙ্গীর কবির রানা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. কে এম শফিউল আলম বাদশা ও ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আহমেদ ফিরোজ কবিরের বাবা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আহমেদ তফিজ উদ্দিন মাস্টার এ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ কথা জানিয়ে ফিরোজ কবির বলেন, তাঁর বাবা এ আসনে আওয়ামী লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করেছেন।

ফিরোজ কবিরের ভাষায়, ‘আমি নিজেও সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দল ও দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য কাজ করেছি। বর্তমানেও করছি। সুতরাং আমি আশা করি, দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন। ’

বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল হক আরজু বলেন, ‘আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই আমি মনে করি, দল আমাকেই দ্বিতীয় দফা মনোনয়ন দেবে। ’

বিএনপি : সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাঁরা প্রচার চালানোর পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে লবিং করছেন তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, আরেক কেন্দ্রীয় সদস্য ও অ্যাগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) মহাসচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি আব্দুল হালিম সাজ্জাদ।

সেলিম রেজা হাবিব বলেন, ‘আমি এমপি থাকাকালে নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মাদরাসা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। পাশাপাশি সব সময়ই দলের দুর্দিনে মাঠে আছি। সুতরাং আমি শতভাগ আশাবাদী, দলের নীতিনির্ধারকরা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। ’

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিলাম। তরুণ বয়স থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় খুব সহজেই দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে পারি। আমি দলের ত্যাগী  নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড তথা গ্রাম পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করেছি। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে। ’

আব্দুল হালিম সাজ্জাদ বলেন, ‘আমি সব সময়ই দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে আছি। সেই সঙ্গে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করতে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সুতরাং আমি মনে করি, দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন। ’

জাতীয় পার্টি : জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু এ আসন থেকে আবার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তিনি এ আসন থেকে ১৯৮৬ ও ’৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।


মন্তব্য