kalerkantho


বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি

দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ বাচ্চুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ বাচ্চুকে

বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। তিন কর্মকর্তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে গতকাল বুধবার আদালত বলেছেন, ব্যাংক লুটপাটের বিষয় খুবই শক্তভাবে দেখা দরকার। আর্থিক অপরাধের বিষয় খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে দেখা উচিত। তা না হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে দ্বিতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

আদালত সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ফজলুস সোবহানসহ তিনজনের জামিন আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত শর্তসাপেক্ষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। জামিনপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন ব্যাংকটির গুলশান শাখার ব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ এবং ব্যাংক কর্মকর্তা মো. সেলিম। চার মামলায় ফজলুস সোবহানকে এবং দুটি করে মামলায় অন্য দুইজনের জামিন মঞ্জুর করা হয়। আদালতের কাছে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যেতে পারবেন না—এ শর্তে জামিন পেয়েছেন তাঁরা। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ও ড. শাহদীন মালিক। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, এ কে এম ফজলুল হক ও কামাল আমরুহী। গতকাল জামিন শুনানিতে আদালত দুদকের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ করে অভিযোগপত্র দিতে দেরি হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।

বেসিক ব্যাংকের গুলশান, দিলকুশা ও শান্তিনগর শাখায় ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক পৃথকভাবে অনুসন্ধান করে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৬টি মামলা করে দুদক। মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৬ জন কর্মকর্তাসহ ১৫৬ জনকে আসামি করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তার বাইরে অন্য আসামিরা ঋণ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তবে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু এবং পরিচালনা পর্ষদকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর এ নিয়ে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আদালতের প্রতিক্রিয়ার পর দুদক বক্তব্য জানতে চেয়ে আবদুল হাই বাচ্চুকে নোটিশ দেয়। গতকাল দ্বিতীয়বারের মতো আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে যান বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান। মাঝখানে দুপুর ২টার দিকে অসুস্থবোধ করলে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একজন চিকিৎসককে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, সকাল থেকে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুপুরের পর তিনি কিছুটা নার্ভাস ফিল করছিলেন বলে জানান। এ সময় দুদকের পক্ষ থেকে চিকিৎসক ডেকে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

গত সোমবার প্রথম দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আবদুল হাই বাচ্চুকে। ওই দিন তিনি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ব্যাংকের হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে দুদককে যতটুকু সম্ভব তিনি বলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে পরের বছরের মার্চ পর্যন্ত নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্নজনকে দিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ‘৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। এই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম। ’

তবে বেসিক ব্যাংকের এই ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় অনুসন্ধান শুরু করলেও জিজ্ঞাসাবাদে বিলম্ব করে দুদক। একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণের পর জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বাচ্চু এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের ১০ জনকে নোটিশ পাঠায় দুদক।


মন্তব্য