kalerkantho


এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

মিলেছে দুর্নীতির প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবর রহমানকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী দুই বছর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর যোগদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এনআরবিসি ব্যাংককে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা।

২০১৬ সালেই এনআরবিসি ব্যাংকের ৭০১ কোটি টাকা ঋণে গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২০ মার্চ ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে পাঠানো আলাদা নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে এনআরবিসি ব্যাংক চালাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রকৌশলী ফরাছত আলীর নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ। এমডি ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাংকটিতে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে। তাঁরা গুরুতর প্রতারণা ও জালিয়াতিও করেছেন, যা ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয়।

দেওয়ান মুজিবর রহমানকে এসব কথা জানিয়ে ব্যাংক কম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। নোটিশে ১০টি কারণ তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং এমডিকে কেন অপসারণ করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়। ৪৬ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের পরিচালক বা এমডিকে অপসারণ করা যায়।

তবে ওই নোটিশের বিরুদ্ধে দুজনই আদালতে যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় এলে গত ৩ মে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও এমডি নোটিশের জবাব দেন। জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় গত জুলাইতে এমডি দেওয়ান মুজিবর রহমানের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবার প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও জবাবের প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্থায়ী কমিটির কাছে জমা দেয় ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ। গভর্নর ফজলে কবিরের অনুমোদনের পরই স্থায়ী কমিটিতে যায় এসব নথিপত্র।


মন্তব্য