kalerkantho


‘নিজ দুর্গে’ জয় চান ঝন্টু ও মোস্তফা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



‘নিজ দুর্গে’ জয় চান ঝন্টু ও মোস্তফা

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর ৯ দিন বাকি। ২১ ডিসেম্বর নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন প্রচারে ব্যস্ত। ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের আমেজও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।

মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে প্রথমবারের মতো হতে যাওয়া এ নির্বাচন বড় দলগুলোর জন্য আবার জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগ এনে দিয়েছে। বিশেষত আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে সক্ষম হবে। একইভাবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিও সুযোগ পাচ্ছে সরকারবিরোধী মনোভাবকে তারা কতটা ব্যবহার করতে পারে।

এখন পর্যন্ত মেয়র প্রার্থীদের প্রচার কর্মকাণ্ড, প্রার্থীদের ভাবমূর্তি, দলীয় সাংগঠনিক অবস্থা—এসব বিবেচনায় লড়াইয়ে এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। রংপুরকে নিজেদের দুর্গ হিসেবে দাবিও করে আসছে দল দুটি। ফলে দুই দলই তাদের মেয়র প্রার্থীকে জেতানোর জন্য মরিয়া। তবে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিও দলের প্রার্থীর জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে তারা ভরসা করছে জামায়াতের ভোটের ওপর।

এ কয়েক দিনে মেয়র প্রার্থীদের প্রচার, গণসংযোগ ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নৌকার প্রার্থী সাবেক মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ও তাঁর সমর্থকরা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সামনে রেখে লাঙ্গলের দুর্গ ভেঙে ফেলার চেষ্টায় আছে। দেরিতে হলেও অভিমান ভুলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে প্রচার মাঠে নেমেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে নৌকার প্রার্থী ঝন্টুর বিজয় নিশ্চিত করতে তারা এখন নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে।

অন্যদিকে এরশাদের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে যদিও এখন তেমন শক্ত অবস্থানে নেই জাতীয় পার্টি। রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের চারটিই হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে ধস নেমেছে লাঙ্গলের ঘাঁটিতে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে হাতে গোনা তিন থেকে চারজন ছাড়া জাতীয় পার্টির তেমন কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। জনপ্রিয়তার ধসে এমন নাজুক অবস্থায় দলটি ঘুরে দাঁড়াতে এবার রংপুর সিটিতে জয়ের বিকল্প ভাবছে না। এ কারণে রংপুর মহানগর কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়ে দুর্গে নিজেদের অস্তিত্ব পোক্ত করতে চাইছেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরই মধ্যে বাগড়া দিয়ে এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। এরশাদের নির্দেশ অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় গত শুক্রবার তাঁকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সমর্থকরা এলাকায় দলের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এরশাদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ফসল ঘরে তোলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া বিএনপির দাবি, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মেয়র পদে তাদের প্রার্থী জয় লাভ করবেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় ভোট যেমন বাড়বে, তেমনি জামায়াতের ভোট যোগ হবে। এতে করে ফল পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ভোটের হিসাব-নিকাশ : রংপুরকে দেশের দশম সিটি করপোরেশন ঘোষণা করে ২০১২ সালের ২৮ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পৌরসভার ১৫টি এবং অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে ১ জুলাই থেকে যাত্রা শুরু করে এই নগর সংস্থা। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয়। ওই সময় ভোটার ছিল তিন লাখ ৫৭ হাজার ৭৪২ জন। বর্তমানে ভোটর তিন লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন।

রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

২০৩ কিলোমিটার আয়তনের রংপুর সিটি করপোরেশনে এবারের নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মোট প্রার্থী ২৮৩ জন। এর মধ্যে মেয়র প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়া বাকি চার মেয়র প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি প্রতীক), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী সেলিম আখতার (আম প্রতীক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আব্দুল কুদ্দুস (মই প্রতীক) ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী এ টি এম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা প্রতীক)। ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ৬৫ জন।

এবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় ব্যক্তি ভাবমূর্তির চেয়ে প্রতীকই প্রাধান্য পাচ্ছে। তাই প্রার্থীরা বিভিন্ন কারণে দুর্বল থাকলেও প্রতীককে সামনে রেখে নির্বাচনী মিশন নিয়ে এগোচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বিগত পাঁচ বছর মেয়র ছিলেন। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থনে এক লাখ ছয় হাজার ভোট পেয়ে মেয়র হন। জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী নেতা মসিউর রহমান রাঙ্গাও তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

গত ২১ নভেম্বর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন ঝন্টু। তাঁর আমলে নগরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, সেসব সামনে রেখে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন তিনি ও তাঁর সমর্থকরা। আওয়ামী লীগ মনে করে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের বিকল্প নেই।

মেয়র প্রার্থী ঝন্টুর দাবি, তাঁর আমলে সিটি করপোরেশনে ২৯৩ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে। নগরীর রাস্তাঘাট ও নালাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন নগরবাসীকে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারের নির্বাচনে ভোটাররা নৌকা প্রতীকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এলাকায় দলের চেয়ারম্যান এরশাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সমর্থন না পেয়েও তিনি প্রায় ৭৭ হাজার ভোট পেয়ে ঝন্টুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। ওই নির্বাচন জাতীয় পার্টি সাবেক পৌর মেয়র আব্দুর রউফ মানিককে সমর্থন দিয়েছিল। তিনি পেয়েছিলেন ৩৯ হাজার ভোট।

এবার নির্বাচনের বিষয়ে জাতীয় পার্টির দাবি, ১৯৯০ সাল থেকে দলটির ঘাঁটি হিসেবে রংপুর পরিচিত। এ ঘাঁটি সহজে কেউ ভাঙতে পারবে না। দলের চেয়ারম্যান এরশাদের আলাদা ভাবমূর্তি রয়েছে এ অঞ্চলে। এই ভাবমূর্তি সহজে নষ্ট করা যাবে না।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রংপুর জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি। জাতীয় পার্টি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাই লাঙ্গলের বিজয় সুনিশ্চিত।’

বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপির কাওছার জামান বাবলা। তিনি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। গত নির্বাচনে দলের প্রতীক না থাকলেও তিনি ২১ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়েছিলেন। এবার তিনি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। জামায়াতের ভোট যোগ হলে ফল পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি-সমর্থকরা।

বিএনপির দাবি, রংপুর সিটিতে জামায়াতের ভোট রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। এই ভোট বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলাই পাবেন বলে তাদের ধারণা।

এ ব্যাপারে বাবলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী না থাকায় তাদের ভোট তো আমিই পেতে পারি। জোটের অন্যান্য শরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভোট যেন আমি ধানের শীষ প্রতীকে পাই এ জন্য চেষ্টা করছি।’

সুবিধাবঞ্চিতরাই ফ্যাক্টর : প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসত না থাকলেও নির্বাচনে উত্সাহ দেখা যাচ্ছে না ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি) ও ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর। তাদের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালে দুস্থ এই পরিবারগুলো ভিজিএফ কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেত; কিন্তু সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বাড়তি সুবিধা তো নেই-ই, বরং প্রাপ্ত সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে তারা।

নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেতারপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, আলীমুদ্দিন, আদনান মিয়া বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তাঁরা ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। পাঁচ বছরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের তেমন একটা খোঁজও নেননি। এবার আবার নির্বাচন এসেছে। তাঁরা সেই প্রার্থীকেই ভোট দেবেন, যিনি তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন।

১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মন্টু মিয়াসহ অনেকে বলেন, ওয়ার্ডজুড়ে দুটি পাকা রাস্তা। বাদবাকি সব কাঁচা। এলাকার দৃশ্য দেখলে কেউ মনে করবে না, এটি সিটি করপোরেশন এলাকা।

সাবেক সদ্যপুষ্করনি ইউনিয়ন বর্তমানে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায়। এ ওয়ার্ডে কোনো উন্নয়নই হয়নি বলে দাবি করছে এলাকাবাসী। তাদের মতে, এ ওয়ার্ডের বেশির ভাগ রাস্তাই চলাচলের অনুপযোগী।

শাহদাত মিয়া, বুলবুল আহমেদসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁরা যে আশায় গত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন, তার সিকি ভাগও পূরণ হয়নি।

ভোটের হিসাব অনুযায়ী নতুন অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডেই ভোট বেশি। সাবেক পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডে ভোটার ছিল এক লাখ ৬৯ হাজার। সে হিসাবে নগরের তিন লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন ভোটারের মধ্যে দুই লাখের বেশি বর্ধিত এলাকার। ফলে মেয়র প্রার্থীদের বাড়তি নজর রয়েছে এসব ওয়ার্ডে।

ঝন্টুকে জেতাতে মরিয়া আওয়ামী লীগ : এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর পক্ষে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রচার। তাঁকে আবার বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগের ১১টি দল প্রচার চালাচ্ছে। তারা উন্নয়নের সপক্ষে জনমত গঠনে মাঠে নেমেছে। বসে নেই দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল জানান, অচিরেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল রংপুরে আসবে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল ও প্রচার-প্রচারণার তদারকি করবেন। তাঁরা নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন এবং দলের কর্মকাণ্ডের তদারকি করবেন। প্রতিনিধিদলটি ভোটগ্রহণের দিন ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রংপুরে অবস্থান করবে।

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। আমাদের সরকারের আমলে রংপুরের যে উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। রংপুরের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আলাদা দৃষ্টি রয়েছে। তাই নৌকাকে বিজয়ী করতে সব নেতাকর্মীকে নিয়ে আমরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছি।’ নৌকা প্রতীক বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাপার প্রচারে নতুন কৌশল : রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নির্বাচন পরিচালনার জন্যও কমিটি গঠন করা হয়েছে। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির ৩৩টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মহানগর কমিটির নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীরকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং আনিসুর রহমানকে সদস্যসচিব করে ১৫১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীর জানান, মূল কমিটির বাইরেও নির্বাচন পরিচালনায় আইন উপকমিটি, অর্থ উপকমিটি ও প্রচার উপকমিটি নামে তিনটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শুক্রবার নগরের সেন্ট্রাল রোডে দলের কার্যালয়ে জেলা জাতীয় পার্টির মাসিক সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

রাঙ্গা বলেছেন, ‘আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে।’ সবাই যাতে নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে জন্য জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের সবাইকে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।


মন্তব্য