kalerkantho


রোহিঙ্গা সংকট

ধর্মীয় পরিচয়ে প্রত্যাবাসনের পক্ষে নয় ঢাকা

মেহেদী হাসান   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ধর্মীয় পরিচয়ে প্রত্যাবাসনের পক্ষে নয় ঢাকা

প্রথম দফায় ৪৫০ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার মিয়ানমারের পরিকল্পনার বিষয়ে যে খবর ওই দেশের গণমাধ্যমে এসেছে সে বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হোক—এটি বাংলাদেশ চায় না। ধর্মের পরিচয়ে যাচাই-বাছাইয়েও বেশ স্পর্শকাতরতা রয়েছে।

এর আগে মিয়ানমার বাহিনী হিন্দু ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে বাধ্য করেছে। চাপের মুখে তারা বলতে বাধ্য হয়েছে যে নিরাপত্তা বাহিনী নয়, ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গা জঙ্গিগোষ্ঠী আরসার সদস্যরাই তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে এ অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি।

জানা গেছে, এ মাসের মাঝামাঝি নেপিডোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট বা ভৌত ব্যবস্থাবিষয়ক চুক্তি সই হওয়ার কথা। রোহিঙ্গারা কোন পথে, কিভাবে যাবে সেসব বিষয় উল্লেখ থাকবে ওই চুক্তিতে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গত ২৩ নভেম্বর সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা।

মিয়ানমারের কাছে এক লাখ রোহিঙ্গার নাম ও তথ্য পাঠানো প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় বৈঠকে মিয়ানমার বলেছে যে বড় একটি তালিকা তাদের দেওয়া যেতে পারে। এর ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশ কাজ করবে।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে আসা সোয়া সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে কিভাবে বাছাই করা হবে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কক্সবাজারে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ে বেশ কিছু কাজ করা হবে। আরআরআরসির এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে। যারা ফিরতে আগ্রহী তাদেরই প্রথম দিকে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যে এলাকাগুলো কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখান থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আগে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

এদিকে প্রত্যাবাসন উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার যখন কাজ করছে তখনো এ দেশে রোহিঙ্গারা আসছে। জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ এখনো সেখানে সৃষ্টি হয়নি। রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক নীতি এখনো অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় এ মুহূর্তে কতজন রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে আগ্রহী হবে তা নিয়েও সন্দেহ আছে। এ ছাড়া শুধু আগ্রহী হলেই চলবে না, রোহিঙ্গাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা ছিল। ব্যাপক নিপীড়ন ও গণহত্যার মুখে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে তাদের প্রমাণ দেওয়াও বেশ কঠিন হতে পারে।


মন্তব্য