kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

খালেদার ঘিলুতে শুধু চুরি-দুর্নীতি আর মানুষ খুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খালেদার ঘিলুতে শুধু চুরি-দুর্নীতি আর মানুষ খুন

ফাইল ছবি

পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তাঁর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘জোড়াতালি দিয়ে ওই পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে, কেউ উঠবেন না’—বিএনপি চেয়ারপারসনের এই বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁর মাথায় এতটুকু জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, তিনি নিশ্চয়ই সজ্ঞানে এ কথা বলবেন না।’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময় অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে ওই পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে, কেউ ওই সেতুতে উঠবেন না।’

এর জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, “সরকারে এসেছি নিজের ভাগ্য গড়তে নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে। আজকে যখন আমরা নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু করি, তখন আপনারা শুনেছেন যে খালেদা জিয়া বত্তৃদ্ধতা দিয়েছেন, ‘ওই পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে করা হয়েছে, কেউ পদ্মা সেতুতে উঠবেন না।’ পদ্মা সেতু নাকি আমরা নির্মাণ করছি জোড়াতালি দিয়ে।”

বিএনপি নেত্রীর বিদ্রূপের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, এক দিক দিয়ে ঠিক, সেতু তৈরির জন্য প্রথমে এক-একটা পার্ট তৈরি করে এবং সেটা পরে বসায়। যার এইটুকু জ্ঞান নেই একটা জিনিস তৈরি করতে হলে কিভাবে কোন পদ্ধতিতে করা হয়, যার মাথায় ওইটুকু ঘিলু নেই, তিনি কী করে এটি বুঝবেন? ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা শুধু চুরি করার, টাকা বানানোর আর এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার; মানুষ পোড়ানোর, মানুষ হত্যার।’

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের ক্ষতি করতে পারে কিন্তু কোনো কল্যাণ করতে পারে না, তারা দেশ ও জাতিকে কি-ই বা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে খালেদা জিয়ার দুই ছেলে ও খালেদা জিয়ার নিজের ঘুষ-দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ও বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা উদ্ধারের বিষয়ে নানা তথ্য দেন। এ সময় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের দায়ে তাঁদের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে যখন বিশ্বব্যাংক আমাদের ওপর দোষারোপ করল—আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম। কারণ চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো সৎসাহস ছিল বলেই দিতে পেরেছি। আর ওই একটি ঘটনায় অর্থাৎ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যখন নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরির উদ্যোগ নিলাম, তখন আন্তর্জাতিক বিশ্ব বুঝে নিয়েছে এই বাংলাদেশ বিজয়ী জাতি। আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করেছি। কারো কাছে মাথা নত করে আমরা চলি না। আমরা মাথা উঁচু করেই চলব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর থেকে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ এক রকম নিষিদ্ধ ছিল। এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে আমার ছাত্রলীগের নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ভিপি চুন্নুকে জীবন দিতে হয়েছিল। খালেদা জিয়ার নির্দেশে তাকে গুলি করে হত্যা করে ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এ রকম আমাদের আরো বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছে। ওই শহীদ মিনারে সোহরাবকে হত্যা করেছে। আমাদের নেতা (বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী) মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বুকে ছুরি মেরেছিল। তারা (বিএনপি-জামায়াত) আসলে কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মেনে নিতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রী যুক্তি উপস্থাপন করেন, তারা যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতায়ই বিশ্বাস রাখত তাহলে কখনো ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করত না। আর আজকে সেই ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আড়াই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা বিশ্বব্যাপী যে স্বীকৃতি পেয়েছি তাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আমি বলব, মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।’ তিনি বত্তৃদ্ধতাকালে খালেদা জিয়ার এসএসসি পরীক্ষার নম্বরপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘বেগম জিয়ার মতো খালি অঙ্ক আর উর্দুতে পাস করলে চলবে না। সকল বিষয়েই উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য সব কিছুই পড়তে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, সব সময় মনে রাখতে হবে যে দেশকে আগামী দিনে নেতৃত্ব দিতে হলে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ছাড়া কখনো নিজেকেও গড়ে তোলা যাবে না। দেশকেও এগিয়ে নেওয়া যাবে না। কাজেই ছাত্রলীগের যে মূলনীতি (শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি) সেই নীতি ধরেই এগোতে হবে। শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে শান্তির পথে, প্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের এটা খেয়াল রাখতে হবে, যার যার নিজের বাড়িতে গেলে আশপাশে কেউ যদি নিরক্ষর থাকে তাহলে তাকে অক্ষরজ্ঞান দিতে হবে। সেই সাথে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর কাছে এটাই থাকবে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার অনুরোধ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে; ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলব। আর ছাত্রলীগই হবে তার অগ্রসেনানী।’

গণভবনের সবুজ ঘাসের লনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সংগঠনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য