kalerkantho


ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কাউকে জোর করে আসামের বাইরে পাঠানো হবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কাউকে জোর করে আসামের বাইরে পাঠানো হবে না

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে

আসাম রাজ্যের হালনাগাদ ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)’ তালিকা নিয়ে কাউকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। গত বৃহস্পতিবার লোকসভায় তিনি জানান, এনআরসির মাধ্যমে কাউকেই জোর করে আসামের বাইরে ঠেলে দেওয়া হবে না। তালিকার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তাই তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার অনলাইনে গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং কার্যত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনার জবাব দেন। গত বুধবার মমতা আসাম রাজ্যে এনআরসি নিয়ে সমালোচনা করেন ও বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় গত বৃহস্পতিবারই আসামে মমতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আসামে এনআরসির কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক কোটি ৯০ লাখ ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে হালনাগাদ তালিকায় নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনো চলছে। কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘যাদের নাম তালিকায় থাকবে না তারা ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হতে পারে। কিছু লোককে তাড়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

গত রবিবার রাতে এনআরসির প্রথম খসড়ায় আসামের তিন কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এক কোটি ৩৯ লাখের নামই বাদ পড়েছে। তাদের আবেদনগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পূর্ব পুরুষদের নাম ১৯৫১ সালের এনআরসিতে বা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের আগের কোনো ভোটার তালিকায় ছিল।

আসামে এনআরসির প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এনআরসিকে আসাম থেকে বাঙালি বা বাংলা ভাষাভাষীদের খেদানোর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশি কূটনীতিকরা বলেছেন, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ। তবে পরিস্থিতির দিকে বাংলাদেশ দৃষ্টি রাখছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভারতের আসাম রাজ্যে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে অবস্থান করছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ থাকলেও এনআরসিতে নাম না থাকলে কাউকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে—এমন কথা সরকার বলছে না। বরং আসামের বাংলা ভাষাভাষীরা সেখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে। এনআরসি প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভারতের আদালত জড়িত। বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান হলেই সে বাংলাদেশ থেকে আসামে গেছে—এমনটি মনে করার যৌক্তিক কারণ নেই। ভারতের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ আসামের বাঙালি মুসলমান ছিলেন। এ ছাড়া ভারতের সামরিক বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন পদে আসামের বাঙালি মুসলমানদের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড আছে।

ভারতের ফার্স্টপোস্ট পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, এনআরসির ফলে আসাম রাজ্যের ভোটের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এনএনআরসির প্রথম তালিকা থেকে লোকসভায় আসামের ধুবরি আসন থেকে নির্বাচিত এমপি বদরুদ্দিন আজমলের নামও বাদ পড়েছে। আসামে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা নিজেদের আসামের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণ করতে না পারলে সেখানে তারা ভোটাধিকার হারাতে পারে।


মন্তব্য