kalerkantho


অপরাধে ‘এগোচ্ছে’ পুলিশ

ওমর ফারুক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপরাধে ‘এগোচ্ছে’ পুলিশ

প্রতীকী ছবি

পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসছেই। ২০১৫ সালে পুলিশের বেতন দ্বিগুণ করা হয়। তবে হেরফের নেই অপরাধপ্রবণতায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেতন বাড়ানো-কমানো নয়, শুধু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই অপরাধ থেকে তাদের দূরে রাখতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ১৩ হাজার ৫৮৬ জন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তর সংখ্যা আগের বছর ১১ হাজার ১৬৭ জন এবং ২০১৪ সালে ১৫ হাজার ২৯৭ জন ছিল। সংখ্যাটি ২০১৩ সালে ১৪ হাজার ৬০ এবং ২০১২ সালে ১২ হাজার ৮৭৯ ছিল। গত বছর শুধু সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবেই ১০ হাজার ৮২১ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা অপরাধ ভেদে গুরু বা লঘুদণ্ড পেয়ে থাকেন। পুলিশের সাবেক এক আইজিপি (মহাপরিদর্শক) কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে পুলিশে নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়। এখন তো অনেক ক্ষেত্রে কনস্টেবল পদেও আট থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ঢুকতে হয়। আর এই ঘুষ ভাগ-বাটোয়ারা হয় রাজনীতিবিদ ও পুলিশের মধ্যে। পরে পদোন্নতি বা বদলিতেও চলে ঘুষের খেলা। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এভাবে বাধ্য হয়েই অনেকে অবৈধ পথে টাকা রোজগার করে এবং বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের সামনেও হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে লজ্জা হয় না দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদ্যের।

এক কনস্টেবল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতিসংঘ মিশনে যাওয়ার জন্য জমি বিক্রি করে এক কর্মকর্তাকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিই। শেষ পর্যন্ত মিশনের জন্য সিলেক্ট হলাম না। টাকাও মার যায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ করলে চাকরিটাও যাবে। আর যাই হোক, চাকরি হারাতে চাই না।’ এ ধরনের কষ্টের কথা জানালেন আরো কয়েকজন কনস্টেবল। একজন বলেন, পদোন্নতির জন্য তিনবার ভালো পরীক্ষা দিয়েও কিছু হলো না। পরে কানে আসে, খারাপ পরীক্ষা দিয়েও অনেকের পদোন্নতি হয়েছে টাকা দিয়ে।

টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ পুলিশ সার্ভিস কমিশন করার কথা বলেছিলাম; কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। হলে পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত হতে পারত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণায়ও এসেছে, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে জিম্মি হয়ে যাওয়ার কারণে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেতন বাড়িয়ে দিয়ে অপরাধপ্রবণতা কমানো যাবে না। দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তথ্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, পুলিশকে পলিটিক্যালি ব্যবহার করার কারণে পুলিশ অপরাধ করার সাহস পায়। এ ছাড়া পুলিশকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। মোটিভেশনাল ট্রেনিং দিতে হবে। শুধু বেতন বাড়িয়ে কিছু হবে না।

তবে স্বরাষ্ট্রসচিব (জননিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তাফা কামাল উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, যাঁরা অপরাধে জড়াচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।


মন্তব্য