kalerkantho


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে উল্টো শাস্তির আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে উল্টো শাস্তির আবেদন

ছবিঃ কালের কণ্ঠ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় এবার উল্টো তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর শাস্তির আবেদন জানানো হয়েছে। মিথ্যাভাবে ওই মামলা দায়ের, ট্রাস্টের নথি ঘষামাজা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে লিখিত এই আবেদন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার খালাস দাবি করে আইনজীবীরা বলেন, এই মিথ্যা মামলার রূপকার সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ গতকাল বুধবার এই যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে শুনানিতে গতকালও হাজির ছিলেন খালেদা জিয়া।

তবে গতকাল খালেদা জিয়ার হাজির হতে দেরি হওয়ায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে খালেদার আইনজীবীরা হৈচৈ করেছেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রাষ্ট্রপক্ষের যে ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করছেন তাঁরা হলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাজেদ আলী ও আবদুল বারেক, সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার ও বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক তৌহিদুর রহমান।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৭৬ ও ১৯৫ (১)(বি)(সি) ধারার বিধান অনুযায়ী, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও নথি জালিয়াতির অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৯৩, ১৯৫, ১৯৬, ৪৬৬, ৪৬৯, ৪৭১, ১০৯ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

খালেদা জিয়ার অন্যতম প্যানেল আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী গতকাল তাঁর অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেছেন। পরে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শুনানি শুরু করেন। তাঁর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুনানি মুলতবি করেন।

সাক্ষীদের শাস্তি এবং খালেদার খালাস দাবি : গতকালের শুনানির শুরুতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বিচারককে বলেন, তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করতে চান। তখন বিচারক বলেন, আগে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হোক। তারপর আবেদন করেন।

এরপর আগের দিনের অসমাপ্ত বক্তব্য শেষ করতে দাঁড়ান খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দণ্ডবিধিতে বিশ্বাস ভঙ্গ ও আত্মসাৎ বিষয়ে বিভিন্ন ধারা, সাক্ষ্য আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা, উচ্চ আদালতের নজির, সংবিধানে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ করেননি। দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এ মামলার দায় থেকে খালেদা জিয়ার খালাস চান তিনি।

মধাহ্ন বিরতির পর আইনজীবী মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য শেষ হয়। এরপর খালেদার পক্ষে আইনজীবীরা ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত আবেদন জানান।

আইনজীবীরা বলেন, এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। ঘষামাজা করা হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বিভিন্ন নথি। জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। কাজেই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আইনে এই ধরনের আবেদনের কোনো সুযোগ নেই।

শুনানি শেষে মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ ধরনের আবেদন করে মামলার ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছেন।

আদালতের উষ্মা প্রকাশ : গতকাল দুপুর ১২টার একটু আগে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছান। তখন আদালত বলেন, ‘আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা সকাল সাড়ে ৯টায়। আপনারা ১২টার সময় কেন এলেন? আপনারা আসেন না আসেন, এরপর থেকে আমি সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু করব। বিকেল ৪টা পর্যন্ত শুনানি নেব।’

তখন খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আমরা মার্শাল ল কোর্ট দেখেছি, প্রধান বিচারপতির কোর্টও দেখেছি। এভাবে কোনো বিচারক কথা বলেন না। এক দিন না হয় একটু দেরিই হয়েছে। আসামির বয়স, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।’

বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা এ সময় সমস্বরে তাঁর কথায় সমর্থন জানাতে শুরু করেন। বিচারক তখন তাঁদের সতর্ক করে বলেন, ‘এ রকম চললে বিচার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’


মন্তব্য