kalerkantho


বিশেষ সাক্ষাৎকার

নির্বাচন ৬০ ভাগ স্বচ্ছ হলেই আমরা নিরঙ্কুুশ

এনাম আবেদীন   

১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচন ৬০ ভাগ স্বচ্ছ হলেই আমরা নিরঙ্কুুশ

সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত চার বছরে সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা নিপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু জনগণ আর তাদের সুযোগ দেবে না। শতকরা ৬০ ভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাবে। সরকারের চার বছর পূর্তির মূল্যায়ন করতে গিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন সময়ের প্রয়োজনে তাঁদের দলের সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারের চার বছর পূর্তিতে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই...

মির্জা ফখরুল : গত চার বছরে অবৈধ এই সরকার অত্যন্ত ‘সাফল্যের’ সঙ্গে জনগণের অধিকার হরণ করেছে এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সরকার ভোট পেয়ে ক্ষমতায় বসেনি। সংবিধানে নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে নির্বাচন জনপ্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে। জনগণকে সেখানে ভোট দিতে হবে। অথচ গত নির্বাচনে শতকরা পাঁচ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি। ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে বসেছেন। তাই এই সরকারও দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না; এই সংসদও জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয়। অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার একদিকে সংবিধানকে বারবার ইচ্ছামতো পরিবর্তন করেছে, অন্যদিকে কঠোর ও নিপীড়নমূলক পথে গেছে। বিএনপিকে নির্মূল করার জন্য গত চার বছর এমন কোনো ব্যবস্থা বা পন্থা নেই যা সরকার করেনি। দলের এমন কোনো শীর্ষ নেতা নেই যাঁরা গত চার বছরে মামলা বা হামলা দ্বারা আক্রান্ত হননি। আমাদের হিসাব মতে, সারা দেশে বিএনপির বিরুদ্ধে অন্তত ৭৮ হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই মাস আগের এক হিসাবে সাত লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। ৭০০-এর মতো মানুষকে হয় গুম অথবা খুন করা হয়েছে। অজস্ত্র মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর লোকজনসহ অনেক মানুষের ব্যবসা ও দোকানপাট দখল করে নেওয়া হয়েছে। সুশীল সমাজের মানুষও এ থেকে নিষ্কৃতি পাননি। এ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তার বিচারকাজ তরান্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার বিচারকার্যও তারা নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে যেভাবে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, যেভাবে পদত্যাগ করানো হয়েছে, তা বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নিম্ন আদালতের বিচারপতিদের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে রেখে দিয়ে আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই সরকার চার বছর পার করতে পেরেছে...

মির্জা ফখরুল : (হেসে) প্রধানমন্ত্রীর এই কথায়ই প্রমাণ হয় যে সেদিন জনগণ ভোট দেয়নি। আর ভোট দেয়নি বলেই তাঁদের বারবার বলতে হচ্ছে জনগণ ভোট দিয়েছে। আসলে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য সরকারের এই শেষ সময়ে এসেও ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পক্ষে সরকারের প্রধান ব্যক্তিকে সাফাই গাইতে হচ্ছে। কিন্তু ওই সময় বাংলাদেশস্থ বিদেশি কূটনীতিকসহ সারা বিশ্ব ওই নির্বাচন সমর্থন করেনি। বিশ্বের কোনো পর্যবেক্ষক বলেননি ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এমনকি আজকের এই প্রধানমন্ত্রীই বলেছেন, তাঁরা যে ভোট পেয়েছেন তাতেই তাঁরা খুশি।

কালের কণ্ঠ : একতরফা এই নির্বাচন করা কিংবা ‘ফ্যাসিস্ট’ হওয়ার ব্যাপারে বিএনপির কোনো দায় আছে কি না।

মির্জা ফখরুল : আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে এ কথা এখন অনেকেই বলার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমি এর সঙ্গে একমত নই। কারণ বিএনপি একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতা পরিবর্তনে বিশ্বাস করে। বিএনপি তো যুদ্ধে কিংবা অস্ত্রে বিশ্বাসী নয়। বিএনপি সর্বহারা পার্টিও নয় যে ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করতে পারে। কিন্তু সরকার যেভাবে তার সব রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিএনপির আন্দোলন প্রতিহত করেছে, সেটি কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। সেটি একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের কাজ। এখন প্রশ্ন হলো, একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে মোকাবেলায় বিএনপিও ফ্যাসিস্ট বা অন্য পন্থায় যাবে কি না বা সেটি হওয়ার সুযোগ আছে কি না। কিন্তু আমি মনে করি বিএনপির বর্তমান যে আইডিওলজি বা বিশ্বাস, অর্থাৎ উদারপন্থী চরিত্র, সেখানে থেকে যুদ্ধ করা যাবে না। তবে গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি লড়াই চালিয়ে যাবে, সেখানে কোনো আপস করবে না।

কালের কণ্ঠ : সামনের নির্বাচনের আগেও সরকার একই কৌশল গ্রহণ বা নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএনপির কী করার আছে?

মির্জা ফখরুল : গতবারের মতোই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের এ ধরনের অপকৌশল থাকলে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হবে। জনগণ একই ধরনের অপকৌশল বারবার গ্রহণ করবে না। তারা অবশ্যই তা প্রতিহত করবে। এর কারণ হলো, জনগণের মধ্যে এখন বোধোদয় হচ্ছে যে এই সরকার দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। সরকারের সুবিধাভোগীরা দ্রুত ধনী হচ্ছে, কিন্তু অন্য মানুষদের সম্পদ লুট হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া এবারে একই সরকার ক্ষমতায় বসতে পারলে তারা যে আর জনমতের তোয়াক্কা করবে না, সেটিও জনগণ জানে। ফলে ওই সুযোগ এবার আওয়ামী লীগ পাবে না।

কালের কণ্ঠ : চার বছরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না?

কালের কণ্ঠ : চার বছরে সরকার আসলে উন্নয়ন করেনি, উন্নয়নের ফানুস জনগণকে দেখাচ্ছে। উন্নয়ন সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ও ধূম্রজাল সরকার সৃষ্টি করেছে। এটি করা হচ্ছে গণমাধ্যম তথা সরকারের প্রচারযন্ত্রকে ব্যবহার করে। এরা গোয়েবলসীয় তত্ত্ব ব্যবহার করে একই মিথ্যা বারবার বলে জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। প্রবৃদ্ধির যে কথা তারা প্রচার করছে, এখন পর্যন্ত সেখানে তারা পৌঁছাতে পারেনি; যেখানে বিএনপি পৌঁছেছিল। যেসব উন্নয়নকাজ তারা বেশি করে প্রচার করছে, সেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য কতটা উপকারী তাও আলোচনার দাবি রাখে। মেগা প্রজেক্ট যেগুলো, সেগুলো বেশির ভাগই ঢাকাকেন্দ্রিক। পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে। অথচ শোনা যাচ্ছে ডিজাইন নাকি ত্রুটিপূর্ণ! এই সরকারের মেয়াদে তো নয়ই, এই ডিজাইনের ওপর এই সেতু শেষ করা যাবে কি না সংশয় রয়েছে। আট হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট এখন ৩০ হাজার কোটিতে চলে গেছে। ভবিষ্যতে এই নির্মাণ ব্যয় কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

কালের কণ্ঠ : সংলাপের ব্যাপারে আপনি কতখানি আশাবাদী?

মির্জা ফখরুল : এটি পুরোপুরি সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের নাকচ করার মনোভাবই বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারকে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে যেতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

কালের কণ্ঠ : সরকারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কোনো আলাপ-আলোচনা...?

মির্জা ফখরুল : এখনো কোনো পর্যায়ে সে রকম আলোচনা নেই।

কালের কণ্ঠ : সহায়ক সরকারের প্রস্তাব প্রস্তুত করা আছে বলে শোনা যায়। ওই প্রস্তাব উত্থাপনের আগে সরকারের সঙ্গে পর্দার আড়ালে আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি?

মির্জা ফখরুল : এ ধরনের কোনো আলোচনার প্রশ্ন এখনই নেই। তা ছাড়া এই ইস্যুতে আগাম কোনো কিছু বলাও সম্ভব নয়। বলা উচিতও নয়।

কালের কণ্ঠ : আগামী নির্বাচনের আগে বিদেশিদের মধ্যস্থতার কোনো ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন কি?

মির্জা ফখরুল : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব সময়ই কিছু এজেন্ডা থাকে। কিন্তু ২০১৪ সালের ও আজকের এজেন্ডা এক নয়। এটির পরিবর্তন হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন প্রায় সবাই একবাক্যে বলছে, তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়।

কালের কণ্ঠ : বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের ভূমিকার কোনো পরিবর্তন আছে?

মির্জা ফখরুল : সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলেছেন। বিএনপি মনে করে, আগামী নির্বাচনের আগে ভারতের ভূমিকা ওই অবস্থানেই থাকবে।

কালের কণ্ঠ : নিরপেক্ষ সরকারের দাবি না মানলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো প্রস্তুতি আছে কি?

মির্জা ফখরুল : সংগঠন, আন্দোলন এবং নির্বাচন—এই তিনটির প্রস্তুতিই বিএনপির আছে। ভোটের অধিকারের জন্য গত চার বছরই বিএনপি আন্দোলনে আছে। আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই মামলা-হামলার মুখোমুখি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য হারাচ্ছে। তার পরও সময়ের প্রয়োজন হলে বিএনপি অবশ্যই অল আউট আন্দোলনে যাবে।

কালের কণ্ঠ : সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি কত আসন পাওয়ার প্রত্যাশা করে?

মির্জা ফখরুল : নির্বাচন শতকরা ৬০ ভাগ নিরপেক্ষ করা সম্ভব হলেও বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করবে।

কালের কণ্ঠ : দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দলের সিদ্ধান্ত কী হবে?

মির্জা ফখরুল : এ ধরনের ঘটনা আমরা প্রত্যাশা করি না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা আছে সেটি সাজানো এবং ওই মামলার কোনো মেরিট নেই। দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হলে জনগণের কাছে স্পষ্ট হবে যে সাজা কী কারণে দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই সময় জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। খালেদা জিয়া শুধু বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করেন না; জনগণের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে তাঁকে সাজা দেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এত সহজ নয়।

কালের কণ্ঠ : অনেকে মনে করেন, খালেদা জিয়ার সাজা হলে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নে বিএনপিতে দ্বিমত দেখা দেবে; এমনকি দল ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়...

মির্জা ফখরুল : বিএনপি ভাঙার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। প্রায় এক যুগেরও বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় অনেকে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে, প্রলোভন দেখিয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এখনো জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক। সরকারের চাপে পড়ে কেউ নিশ্চুপ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু খালেদা জিয়া বা বিএনপিকে কেউ ছেড়ে যাবে, এটি এখনো দুঃস্বপ্ন। অতীতে অনেকে বিএনপি ছেড়ে গিয়ে আবারও এই দলে ফিরেছে। সুতরাং ওই আলোচনা আলোচনাই থেকে যাবে। এটি কখনো কার্যকর হবে না। বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছে।

কালের কণ্ঠ : একতরফা আরেকটি নির্বাচন হলে কী ঘটতে পারে?

মির্জা ফখরুল : এ ধরনের ঘটনা জনগণ হতে দেবে না বলে বিএনপি মনে করে। কারণ অমন পরিস্থিতিতে দেশ যে পরিপূর্ণভাবে একটি একদলীয় কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিস্ট সরকারে পরিণত হবে, সেটি জনগণ জানে। তা ছাড়া এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে না যে তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকার মেনে নেবে।

কালের কণ্ঠ : ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের তুলনায় সুশাসন বিএনপি কী দিতে পারবে? সেই ধরনের নেতৃত্ব বিএনপিতে আছে কি না।

মির্জা ফখরুল : বিএনপির অতীত ইতিহাসই বলে যে তারা সুশাসন দিতে সক্ষম। আজকে অর্থনীতি নিয়ে আওয়ামী লীগ যে বড়াই করে তার বেশির ভাগই বিএনপি আমলে শুরু করা। মুক্তবাজার অর্থনীতিব্যবস্থা, প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহিত করা, ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, গার্মেন্ট সেক্টর গতিশীল হওয়াসহ অনেক কিছু বিএনপি আমলে শুরু হয়েছে; যা পর্যায়ক্রমে বিকশিত হয়ে আজ এই পর্যায়ে। সবচেয়ে বড় কথা বিএনপি আমলে কাউকে ধরে নিয়ে গুম করা হয়নি। সমাজে নিরাপত্তা এখনকার চেয়ে বিএনপি আমলে অনেক বেশি ছিল। এত অস্থিরতা সমাজে ছিল না। প্রশাসনকে এইভাবে বিএনপি ব্যবহার করেনি। কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি ধ্বংস করেনি। রাজনীতিকে বিএনপি কখনোই এমন জায়গায় নিয়ে যায়নি। আজকে শোনা যায়, সরকারি দলের অনেকেই নাকি ভয়ে আছে। তারা বিদেশে গাড়ি-বাড়ি করছে।

কালের কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের হাতে বিএনপি অনেক জুলুম-নির্যাতন নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে আপনারা অভিযোগ করছেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসাপরায়ণতা পরিহার কিভাবে সম্ভব হবে?

মির্জা ফখরুল : প্রতিহিংসার পথে বিএনপি যাবে না—এ কথা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্য-বিবৃতিতেই বলেছেন। তাঁর ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তা ছাড়া আরেকটি বিষয় জনগণের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনবার বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। কতজন লোক ব্যবসা হারিয়েছে? কতজন লোককে দেশ ছাড়তে হয়েছে? কতজন লোক গুম হয়েছে? মামলা হয়েছে কতগুলো? কয়টি মিডিয়া বন্ধ হয়েছে বিএনপি আমলে? এসবের হিসাব নিলেই বোঝা যাবে বিএনপি প্রতিহিংসাপরায়ণ কি না। 

কালের কণ্ঠ : সংলাপ কিভাবে শুরু হতে পারে বলে আপনি প্রত্যাশা করেন?

মির্জা ফখরুল : বিএনপি প্রতিদিনই সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকার ইচ্ছা করলে এই আহ্বানে সাড়া দিতে পারে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  দুই-একবার এ ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্যও দিয়েছেন। ইচ্ছা করলে ওই বক্তব্যকে আওয়ামী লীগ এগিয়ে নিতে পারে। আমরা মনে করি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে আবারও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বা অনিশ্চিত অবস্থা তৈরি করা দায়িত্বশীল কোনো রাজনৈতিক দলের কাম্য হতে পারে না। তাই শেষ পর্যন্ত সংলাপের পথ বেরিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি। 

কালের কণ্ঠ : শর্ত ছাড়াই কি বিএনপি সংলাপে রাজি?

মির্জা ফখরুল : দেখুন, যদি সংকটই না থাকে তাহলে সংলাপের প্রয়োজন কি! অর্থাৎ দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে এবং সেই সংকট নিয়েই বিএনপি আলোচনা চায়। সুতরাং এখানে শর্ত থাকা না থাকার বিষয়টি মুখ্য নয়। মুখ্য হচ্ছে, নির্বাচনের আগে সংলাপ তথা সমঝোতা হতে হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

মির্জা ফখরুল : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।


মন্তব্য