kalerkantho


বন্ধুর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

রংপুর অফিস   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বন্ধুর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

রংপুরের কাউনিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার ২৭ দিন পর সিরাজুল ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার হকবাজারসংলগ্ন মালিয়াটারী গ্রামের তাঁর বন্ধু ফরিদ হোসেনের বাড়ির রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দাদন ব্যবসার লেনদেন নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নিহত সিরাজুল মালিয়াটারীর পার্শ্ববর্তী কানাটারী গ্রামের মফেল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় দাদন ব্যবসায়ী ছিলেন। এ ঘটনায় ফরিদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ ওই গ্রামের ফুলবাবুর ছেলে। সিরাজুল ও ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের বন্ধু ছিল।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে সিরাজুল তাঁর বন্ধুর ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন হকবাজারের উদ্দেশে। এরপর আর ফিরে আসেননি। ওই দিন থেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খোঁজাখুঁজির দুই দিন পর ১৯ ডিসেম্বর সিরাজুলের ভাই সেরেকুল ইসলাম কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতান আলী জানান, নিহত যুবক পেশায় দাদন ব্যবসায়ী ছিলেন। শুক্রবার রাতে ফরিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে  সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। পরে তার স্ত্রী মিনি আক্তার মিষ্টিকে (২৫) গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিখোঁজ সিরাজুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মূলত দাদনের টাকার জেরে ফরিদ ও তার স্ত্রী সিরাজুলকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রথমে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহ রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে। নিহতের বাবা মফেল উদ্দিন জানান, দুর্বৃত্তরা মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে সিরাজুলকে অপহরণ ও হত্যা করতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল। মফেল উদ্দিন তাঁর ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানান।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল সন্ধ্যায় কাউনিয়া থানার ওসি মামুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



মন্তব্য