kalerkantho


সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া বাড়ি ফিরবেন না মাদরাসা শিক্ষকরা

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ‘নিষ্ফল’ বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া বাড়ি ফিরবেন না মাদরাসা শিক্ষকরা

ফাইল ছবি

জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষকরা। গতকাল রবিবার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা সমিতির নেতারা।

গতকাল বিকেলে পরিবহন পুল ভবনে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অনশনরত শিক্ষকদের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী অনশন ভেঙে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করলে নেতারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ১৪ দিন আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি মূলত ‘নিষ্ফল’ বৈঠকে পরিণত হলো।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী চলমান সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সক্রিয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে শিক্ষকদের জানান। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করা হবে বলে নেতাদের জানান শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী এই তীব্র শীতের মধ্যে আর কষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের দাবি ও সমস্যা যথাযথভাবে আমরা প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব। আপনারা ঘরে ফিরে যান।’

বৈঠককালে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অশোক কুমার বিশ্বাস ও রওনক মাহমুদ, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আর শিক্ষকদের পক্ষে সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী ও মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমানসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয়করণের সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা অনশন চালিয়ে যাব। আর এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী অথবা শিক্ষামন্ত্রী যাঁর কাছ থেকেই আসুক না কেন, তা প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের সামনে এসে দিতে হবে। কারণ আগেও আমরা অনেক আশ্বাস পেয়েছি; কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। তাই আমরা এবার দাবি আদায় ছাড়া ঘরে ফিরব না।’

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঢালাওভাবে নয়, চলতি বছর কিছুসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নতুন করে শর্ত সাপেক্ষে এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়ে বর্তমানে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।’

মাদরাসার শিক্ষকরা জাতীয়করণের জন্য অনশন করছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে তাঁদের জন্য সরকারের কিছু করার নেই।’

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা গত ১ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এরপর ৯ জানুয়ারি থেকে তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। অনশনের ষষ্ঠ দিনে গতকাল পর্যন্ত ১৬৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আবার কেউ কেউ অনশনস্থলে স্যালাইন নিয়ে অবস্থান করছেন। তবে তীব্র শীতে বেশির ভাগ শিক্ষকই দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিনা বেতনে চাকরি করতে করতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। জাতীয়করণ ছাড়া আমাদের আর ভিন্ন কোনো পথ খোলা নেই। সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছে। আমরাও তো প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম অংশ। তাহলে আমাদের কেন বাকি রাখা হবে? শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তাই আমাদের কর্মসূচি চলবে। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি ঠিকমতো বোঝালে তিনি নিরাশ করবেন না। তাই আমরা তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছি।’

জানা যায়, মাদরাসা বোর্ডের নিবন্ধন পাওয়া ১০ হাজারের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা আছে। এতে শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। মাত্র এক হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক দুই হাজার ৫০০ টাকা ও সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা ভাতা পান। বাকি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন।

এদিকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আজ সোমবার থেকে অনশন শুরু করবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাঁরাও গতকাল পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পঞ্চম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এমপিওভুক্ত পাঁচটি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ব্যানারে তাঁরা এই আন্দোলন করছেন।

লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষকরা যেসব বৈষম্যের শিকার, তা দূর করা এবং শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার একমাত্র সমাধান শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ। জাতীয় করলে সরকারকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে তেমন কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। কারণ সরকার অনেক আগে থেকেই শিক্ষকদের এখন মূল বেতন দিচ্ছে। তাই বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি না করে আমরা একসঙ্গে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জোর দাবি জানাচ্ছি।’


মন্তব্য