kalerkantho


পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন

‘ডিসেম্বরের আগেই নতুন মজুরি কাঠামো’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন

ফাইল ছবি

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এই বোর্ড আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেবে।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং শ্রমিক সংগঠনের একজন করে প্রতিনিধিকে যুক্ত করে এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই কমিটি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন কাঠামো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। এরপর সরকার পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করবে।’ এর আগে গত ৮ নভেম্বর বিজিএমইএ পোশাক খাতের জন্য

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। বিজিএমইএর এই উদ্যোগকে সরকার ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের একটি স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ড রয়েছে। চার সদস্যের সেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। এই বোর্ডের অন্য তিন সদস্য হলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু, তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি এবং নিরপেক্ষ প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যখন যেই খাতের মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়, সেই খাতের দুজন প্রতিনিধি যুক্ত করা হয়। নতুন মজুরি বোর্ডে স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে মালিকদের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় শ্রমিক লীগের নারীবিষয়ক সম্পাদিকা বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়াকে রাখা হয়েছে।  আগের মজুরি কাঠামোর পাঁচ বছর পার হওয়ার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড উল্লেখ করে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘এর আগে ২০১৩ সালে সর্বশেষ মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার আগেই আমরা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করলাম। এই কমিটির সুপারিশের আলোকে আগামী ডিসেম্বরের আগেই নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি।’

পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ গত ২০১৩ সালের নভেম্বরে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণার এক মাস পর ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। সে অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেলে একজন শ্রমিক নিম্নতম পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। এ ছাড়া বছরে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া বাধ্যতামূলক। শ্রম আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পর পর নিম্নতম মজুরি পর্যালোচনা করা যায়। এ ছাড়া বিশেষ পারিপার্শ্বিক অবস্থায় যেকোনো পর্যায়ে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে নিম্নতম মজুরি ঘোষণার নিয়ম আছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত নিম্নতম মজুরি বোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি)। পরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারের নেতৃত্বে কয়েকজন চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। এ সময় সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের মূল বেতন ১০ হাজার টাকা ধরে ন্যূনতম মজুরি ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানান।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের কোনো চক্রান্তে পা না দিতে আহ্বান জানান শ্রম প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নতুন বোর্ড বাজার যাচাই করে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নতুন মজুরি বোর্ডের সুপারিশ করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান, বিজিএমইএ-এর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য