kalerkantho


কড়া সমালোচনা করলেন মুহিত ও তোফায়েল

সিপিডি দেশের উন্নয়ন চোখে দেখে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিপিডি দেশের উন্নয়ন চোখে দেখে না

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কখনো বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে দেখে না। তারা বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এ কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেছেন, বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সিপিডির বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই। এর মাধ্যমে তারা বিরোধী দলের হাতে অস্ত্র তুলে দিল।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গত শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেশে ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে ২০১৭ সাল চিহ্নিত হয়ে থাকবে। চলতি বছরও ব্যাংক খাতের ঘটনাগুলোর কোনো নিরসন হবে বলে মনে হচ্ছে না। ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায় যে সংস্কারের বিষয়ে সরকারের মনোভাব কী রকম ছিল।’

সিপিডির এই পর্যালোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনকে অল রাবিশ বলে মন্তব্য করেন। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিপিডি বাংলাদেশকে টেনে নামানোর চেষ্টা করছে। তারা কখনো বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে দেখে না। শুধু নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে।’ ২০১৭ সালকে সিপিডি ব্যাংক খাতের জন্য কলঙ্কের বছর বলার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘কই, অত বড় কেলেঙ্কারি (হলমার্ক) হয়ে গেল, তখন তো তারা কিছু বলেনি?’

ব্যাংক খাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে—সিপিডির এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কোনো বক্তব্য নেই। বাংলাদেশ যে এত সব অর্জন করেছে, সে ব্যাপারে সিপিডি কখনোই কোনো রিকগনাইজ (মূল্যায়ন বা স্বীকার) করেনি।’

ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটারের সঙ্গে গতকাল সচিবালয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সিপিডির প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সিপিডি দেশবাসীকে হতবাক করেছে। সিপিডি দেশের উন্নয়ন খুঁজে পায় না। বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে সিপিডির বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, উন্নয়নের সব শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশ আগামী মার্চ মাসে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হচ্ছে। আর সেই সময়ে সিপিডি দেশের উন্নয়নের সমালোচনা করছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ দেশি-বিদেশি নানা সংস্থা, বিশ্বের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ, অর্থনৈতিক গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করছে। ২০০৬ সালে দেশের শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ দরিদ্র ছিল। বর্তমানে তা শতকরা ২২.৪ ভাগে নেমে এসেছে। হতদরিদ্রের সংখ্যা শতকরা ১৭.৬ ভাগ থেকে ১১.৯ ভাগে নেমেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০৩০ সালে দেশে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা শতকরা তিন ভাগের নিচে নেমে আসবে। সরকার দারিদ্র্য দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করেছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে একসময় যারা তলাবিহীন ঝুড়ি ও বিশ্বের দরিদ্র দেশের রোল মডেল বলত, এখন তারা আমাদের উন্নয়নকে বিস্ময়কর বলছে। বিদেশি সংস্থাগুলো বলছে যে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৮তম ও ২০৫০ সালে ২৩তম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হবে। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ১০.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরে হয়েছে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এত উন্নয়নের মধ্যেও সিপিডি বাংলাদেশের উন্নয়ন খুঁজে পায় না। এই প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সিপিডি বিরোধী দলের হাতে অস্ত্র তুলে দিল।’

সিপিডির সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াট থেকে ১৬ হাজার ৪৩ মেগাওয়াটে নিয়ে গেছে। দেশের শতকরা ৮৩ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষার হার এখন শতকরা ৭১ ভাগ, গড় আয়ু ৭০.৩ বছর। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারও শতকরা ৬ ভাগ থেকে ৭.২ ভাগ হয়েছে। প্রয়োজনের শতকরা ৯৮ ভাগ ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের সর্ববৃহৎ পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ সিপিডি কোনো উন্নয়ন খুঁজে পাচ্ছে না।

‘কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে’ : সচিবালয়ে গতকাল পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সঙ্গে ইরা ইনফোটেক লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। এমপিওভুক্তি একটি খারাপ নীতি। আমি এই নীতিকে সংস্কার করতে চেয়েছি, কিন্তু হয়নি। এমপিওভুক্তিতে সব সময় শিক্ষকই লাভবান হয়। প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষার মানে কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এমপিও আটকে রেখেছিলাম। এবার কিছু দিতে হবে। তবে আমি তাদের নতুন করে কিছু শর্তও দেব। পুরো পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনতেই শর্ত জুড়ে দেওয়া হবে। এমপিওর বরাদ্দের একটি অংশ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন উপকরণ কেনার জন্যও কিছু অংশ বরাদ্দ থাকবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক রুমে পাঁচজন শিক্ষককে একসঙ্গে পাঁচটি ক্লাস নিতে দেখা যায়। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পাবে না। বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা যেন আলাদা বসতে পারে, সেই ব্যবস্থা শিক্ষায় খুবই জরুরি।

আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের নেই জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয়করণের জন্য একটি নীতিমালা আছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী ধাপে ধাপে স্কুলের জাতীয়করণ হচ্ছে।


মন্তব্য