kalerkantho


সহজ জয়ের সঙ্গে মিলল ঘোষণাও

নোমান মোহাম্মদ    

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সহজ জয়ের সঙ্গে মিলল ঘোষণাও

ত্রিদেশীয় সিরিজে শুরুটা স্বপ্নের মতোই হয়েছে সাকিব আল হাসানের। প্রথম ওভারে দুই উইকেটসহ বোলিংয়ে তিন উইকেট নেওয়ার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্যাটিংয়েও ৩৭ রান। ছবি : মীর ফরিদ

জিম্বাবুয়ে : ৪৯ ওভারে ১৭০ বাংলাদেশ : ২৮.৩ ওভারে ১৭১/২, ফল : বাংলাদেশ আট উইকেটে জয়ী, ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাকিব আল হাসান

 

জয়ধ্বনিতে কেঁপে উঠল না চারদিক। দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে উন্মাতাল ছুটল না বিজয় মিছিল। রঙের হোলি খেলায় মাতল না ক্রিকেটপাগলরা। অথচ ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুটা তো জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আট উইকেটের সহজ জয়েই হলো বাংলাদেশের!

নাহ্, এ দেশের ক্রিকেটে সেদিন নেই আর। যে কারণে ১৫ মাস পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে হলেও গ্যালারি করে খাঁ খাঁ। শীতদুপুরের অলসতা কিংবা কর্মব্যস্ত দিনের ব্যস্ততার চেয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দেখার আগ্রহটা বেশি থাকে না। এ খেলা তো এমনিতেই জিতবে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল! সেটি চন্দিকা হাতুরাসিংহের যুগ-পরবর্তী সময়ে হলেও! টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাম দিয়ে দলের রণকৌশল সাজানোর দায়িত্ব খালেদ মাহমুদের কাছে থাকলেও।

আর সত্যিই যে জনারণ্যের সেই বিশ্বাসের অনুবাদ কালকের বাংলাদেশে! তাদের দাপুটে পারফরম্যান্সে। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ৪৯ আর বাংলাদেশের ২৮.৩ ওভার—এই ৪৬৫ বল স্থায়ী ম্যাচের প্রথম থেকে শেষ বল, মুহূর্তের জন্যও সফরকারীদের হাতে ছিল না খেলার লাগাম।

আগের দিনের মতো কুয়াশার রাজত্ব ছিল না কাল। সূর্য ছড়ায় মরা আলো। আর টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার পর প্রথম বল থেকেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। শীত-কুয়াশার পেস সহায়ক কন্ডিশনেও একাদশে সাজায় দুই স্পেশালিস্ট স্পিনার নিয়ে। সেই সাকিব আল হাসান ও সানজামুল ইসলামের হাতে নতুন বল তুলে দেওয়াটা চমকে দেওয়ার মতো। সাকিব উইকেট তুলে নেন ইনিংসের প্রথম বলেই। লেগ সাইড দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে মুশফিকুর রহিমের দক্ষতায় স্টাম্পিং সলোমন মায়ার। এক বল পর ক্রেইগ আরভিন ক্যাচ দেন শর্ট মিড উইকেটে। এই যে প্রথম তিন বলে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে, সেখান থেকে বেরোতে পারেনি আর।

প্রথম  বদলি বোলার হিসেবে মাশরাফি বল তুলে নেন হাতে। দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য। হ্যামিল্টন মাসাকাদজা উচ্চাভিলাষী শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ৩০ রানে তিন উইকেট হারিয়ে হাবুডুবু খাবার দশা জিম্বাবুয়ের। অনেক দিন পর দলে ফেরায় ব্রেন্ডন টেলরও সুবিধা করতে পারেন না। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে হয়ে যান কট বিহাইন্ড। ম্যালকম ওয়ালার ‘জীবন’ পান দুটি। শীতে জমে যাওয়া আঙুলের কারণেই কিনা স্লিপে নাসির হোসেন এবং নিজের বোলিংয়ে সানজামুল ক্যাচ মুঠোবন্দি করতে পারেন না। সে সুযোগও আবার কাজে লাগাতে ব্যর্থ ওয়ালার। সানজামুলের বলে আউট হন যখন, স্কোরবোর্ডে মোটে ৫১ রান। ইনিংসের অর্ধেক উইকেট শেষ; অর্ধেকের বেশি ওভারও শেষ।

ওখান থেকে ১৭০ পর্যন্ত যাওয়া কম কথা নয়!

ষষ্ঠ উইকেটে ৫০ রানের জুটিতে সিকান্দার রাজা ও পিটার মুর কিছুটা মুখরক্ষা করেন জিম্বাবুয়ের। রাজা তুলে নেন নিজের নবম ওয়ানডে ফিফটি। পরপরই রান আউট। গ্রায়েম ক্রেমারকে আউট করে নিজের তৃতীয় শিকার সাকিবের। ম্যাচে বাংলাদেশের সফলতম বোলার এই বাঁহাতি। তবে খেলাটি বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে রুবেল হোসেনের জন্য। মোহাম্মদ রফিক, আবদুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও সাকিবের পর পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে যে ওয়ানডেতে উইকেটের সেঞ্চুরি হয় তাঁর! পর পর দুই বলে মুর ও চাতারাকে বোল্ড করে ওই মাইলফলক স্পর্শ রুবেলের। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি। পরের ওভারে দারুণ বোলিং করা মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকারে ১৭০ রানে অল আউট জিম্বাবুয়ে।

এই রান তাড়া করায়ও ন্যূনতম সময়ের জন্যও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়নি বাংলাদেশের।

শুরুটা এনামুল হকের ব্যাটে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে নামেন মাঠে। স্ট্রেইট ড্রাইভ, ফ্লিক ও স্কয়ার কাটে চোখ জুড়ানো তিন বাউন্ডারির সময় নেচে ওঠে অর্ধপূর্ণ গ্যালারি। কিন্তু ইনিংসটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৪ বলে ১৯ রান করে মিড উইকেট বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন এনামুল। তিনে নামা সাকিব আল হাসান খেলছিলেন আস্থা নিয়ে। তামিম ইকবালের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৮ রান জুড়ে জয়টাকে সহজ বানিয়ে দেন। ৩৭ রান করার পর রিভিউ নিয়ে সাকিবকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠায় জিম্বাবুয়ে। এর কিছুক্ষণ আগেই অবশ্য রিভিউয়ের সৌজন্যে বেঁচে যান তামিম।

এই তামিমের ব্যাটিংয়ে ছিল কালকের বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের প্রতিচ্ছবি। খুনে নয়, তবে পরিণত। ডাকাবুকো নয়, কিন্তু পেশাদারি। ৯৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসে কখনো তাড়াহুড়া ছিল না। আবার ক্ষণকালের জন্যও মনে হয়নি চাপে আছেন তামিম। আট বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় নিজের স্ট্রোক খেলার সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়ে যায় তিনি। একটাই আফসোস, জিম্বাবুয়ের রান কম হয়ে গেছে বলে সেঞ্চুরিটা হলো না।

তা না হয় তোলা রইল সামনে ম্যাচগুলোর জন্য। ত্রিদেশীয় সিরিজে অমন সুযোগ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে আরো তো আসার কথা। তবে এই মানচিত্রকে উৎসবে রাঙাতে হলে শিরোপার চেয়ে কম কিছুতেই চলবে না! কালকের খাঁ খাঁ গ্যালারি অনুচ্চে যেন দিয়ে গেল সেই ঘোষণাই।


মন্তব্য