kalerkantho


শীতের তীব্রতা কমছে না, ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতের তীব্রতা কমছে না, ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগ

প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশা। তাই বলে তো জীবন থেমে থাকে না। কিন্তু ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পদ্মা পাড়ি। গতকাল গোয়ালন্দ ঘাট এলাকা থেকে তোলা ছবি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নতুন বছরের তৃতীয় দিন থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ এখনো চলছে। আরো দু-তিন দিন থাকবে এ শৈত্যপ্রবাহ। অর্থাৎ চলতি সপ্তাহের পুরোটা সময়ই শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

কনকনে ঠাণ্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। বেশি বিপদে পড়েছে দরিদ্র মানুষ।

ঘন কুয়াশার কারণে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে গতকালও টানা সাত ঘণ্টা ফেরি বন্ধ ছিল। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথেও ফেরি বন্ধ ছিল আট ঘণ্টা। বিমান বাংলাদেশের সিলেটগামী একটি ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সময়মতো ফ্লাইট ছাড়া সম্ভব হয়নি।

রংপুরে শীতার্ত দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব ক্রীড়া সংগঠন বসুন্ধরা কিংস।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় এখনো শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সেটা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্তও থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া কর্মকর্তা নাজমুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর অঞ্চল দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই-তিন দিন থাকতে পারে।’

ফেরি বন্ধ : ঘন কুয়াশার কারণে ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে টানা সাত ঘণ্টা ফেরি বন্ধ রাখার পর গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আবার চালু করা হয়। এর আগে কুয়াশার কবলে পড়ে ভাষাশহীদ বরকত, কেরামত আলী, হাসনাহেনা ও বনলতা নামের চারটি ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়ে। এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত যাত্রী ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলারে করে নৌপথ পাড়ি দেয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ফের ঘন কুয়াশার কারণে সোমবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই নৌপথে সব ফেরি বন্ধ থাকে। এতে দৌলতদিয়া ঘাটে অনেক গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।’ তবে ছোট-বড় মোট ১৬টি ফেরি সার্বক্ষণিক সচল রেখে গাড়িগুলো দ্রুত পারাপার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরি সার্ভিস ঘন কুয়াশায় ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল সকাল ১০টায় সচল হয়েছে। এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কনকনে ঠাণ্ডার মধ্যে ৫০০-এরও বেশি যাত্রী নিয়ে মাঝপদ্মায় আটকা পড়ে ছয়টি ফেরি। শিমুলিয়া প্রান্তে পরাপারের অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যায়। তবে কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর এখন পরাপার স্বাভাবিক হয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) খন্দকার শাহ খালেদ নেওয়াজ বলেন, রাত ২টায় আকস্মিক কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে নৌপথটি। এতে বিকন বাতি বা খুব কাছের কিছুও দেখা যাচ্ছিল না। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

জীবনযাত্রা ব্যাহত : নীলফামারীতে শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গতকাল জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া দপ্তর সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। গত রবিবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বাড়লেও ঘন কুয়াশায় তীব্রতা কমেনি শীতের।

শীতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষকে ছুটতে দেখা গেছে গরম কাপড়ের সন্ধানে। সামর্থ্যহীনরা অপেক্ষায় আছে ত্রাণের, সামান্য সামর্থ্য যাদের আছে তারা ছুটছে পুরনো কাপড়ের দোকানে।

ফ্লাইট বিলম্বে ক্ষোভ : গতকাল দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেল ৪টার পরও ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। যাত্রীরা বিমান না ছাড়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর দিতে পারেনি বিমান কর্তৃপক্ষ। কয়েকজন যাত্রী বিমানবন্দরে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে নালিশ করেন। পরে বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।

জেবুন্নেসা নামের এক যাত্রী কালের কণ্ঠ’র কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কী কারণে ফ্লাইটটি দেরি হয়েছে, সেটা তারা আমাদের জানাতে পারেনি। একপর্যায়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আমরা বিক্ষোভ পর্যন্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করা হয়। অথচ বেসরকারি এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলো নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে।’ একটি চক্র বিমানকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে—এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আরো গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে। আর না হয় রাষ্ট্রীয় বিমান থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে।

তবে বিমানের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘন কুয়াশার কারণেই ফ্লাইটটি ছাড়তে দেরি হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই এই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।


মন্তব্য