kalerkantho


ইসি

কার্যক্রম স্থগিত, আজ বৈঠক

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কার্যক্রম স্থগিত, আজ বৈঠক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর নির্বাচনের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে এ কথা জানান।

হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি নির্বাচন কমিশন শ্রদ্ধাশীল। মামলার বাদীর আইনজীবীর সার্টিফায়েড কপি আমরা বুধবার সন্ধ্যায় হাতে পেয়েছি। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে কাল (আজ) বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় তা উপস্থাপন করা হবে। তবে দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের কার্যক্রম চলবে।’

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা ও নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডগুলোর কাউন্সিলরদের মেয়াদ নিয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা ছিল শুরু থেকেই। এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদনও হয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও তাঁদের আশঙ্কার কথা বলে আসছিলেন; কিন্তু নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুরু থেকেই তা আমলে নেয়নি। কমিশনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো জটিলতা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, ‘নির্বাচন করা ইসির দায়িত্ব। স্থানীয় সরকার থেকে এসব নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ পেয়েছিল ইসি। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রথম নির্বাচিত মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। গত ৯ জানুয়ারি ইসি ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ডিএনসিসি মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের কথা বলা হয়। তফসিলে ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য ২১-২২ জানুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি ধার্য করা হয়। আর ভোট গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বাম দলগুলো উত্তরের মেয়র পদের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে। এমনকি মেয়র পদের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম, বিএনপি তাবিথ আউয়াল ও বাম দলগুলো জোনায়েদ সাকির নাম ঘোষণা করে।

প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার আগেই দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়। এর মধ্যে ডিএনসিসি নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন এই করপোরেশনের সম্প্রসারিত ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান এবং বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। তাঁদের মধ্যে আতাউর ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীর বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

 

‘ভোটার তালিকা নিয়ে আমাদের ত্রুটি নাই’

আদালতের আদেশের অপেক্ষায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে ডিএনসিসির রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে কার্যক্রম এক রকম বন্ধ ছিল। দুপুরে গণমাধ্যমে খবর শুনেই তা পুরোপুরি স্থগিত করে দেয় কমিশন। এ সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রশ্নে ব্যাখ্যা দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাসেম। এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যিনি এই মামলার বাদী উনি নিজেও গত ১৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র নিয়ে গেছেন এবং ভোটার তালিকার একটা সিডিও ওনাকে দেওয়া হয়েছে। সেই ভোটার তালিকায় ওনার নামও রয়েছে। অতএব ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন তথা আমাদের কোনো ত্রুটি আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।’

স্থগিতের আগে মঙ্গলবার পর্যন্ত মেয়র পদে ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও কেউ তা জমা দেননি। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪১২ জন এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ৭১ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন বলে রিটার্নিং অফিসার জানান। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য